জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মতে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দেশবাসীর দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে
জামায়াত নেতা: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: জামায়াত নেতার মতে দেশবাসীর দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা পূরণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আজ বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা প্রকাশ করেন।

অতীত নির্বাচনের সমালোচনা ও বর্তমানের আশা

অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল বলে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। তিনি দাবি করেন যে তারা বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতিকে ধ্বংস করেছিল। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ফলে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার ছিল: বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন।

নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের মানুষ গভীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষায় ছিলেন এবং তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। শহরাঞ্চলের লোকেরাও দলে দলে গ্রামে গিয়ে সুন্দরভাবে ভোট দিয়েছেন। তিনি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কমিটমেন্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশবাসী সেটি বিবেচনা করবে। সকাল থেকে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফলাফল ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া

অ্যাডভোকেট জুবায়ের জানান, তারা সাড়ে ৫২ হাজারেরও কিছু বেশি কেন্দ্রের ফলাফল পাবেন, একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। পোস্টাল ভোট, গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা হবে, এবং দেশবাসী গভীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে সবার আন্তরিকতা ছিল এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল, ফলে বাংলাদেশে একটি অনন্য ও সাধারণ নির্বাচন হয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে খুব বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে শরীয়তপুর-২, কুমিল্লা-৮ ও পটুয়াখালী-১ আসনসহ কিছু কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিছু স্থানে শারীরিক নির্যাতন ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে, যা তারা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সচেতন জনগোষ্ঠী সব ধরনের সন্ত্রাস ও চক্রান্ত রুখে দিতে পারে এবং বাংলাদেশের মানুষ সেটি প্রমাণ করেছে।

শেষ কথা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

তিনি বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কিছু দুর্বলতা ও অনিয়ম বাদে সামগ্রিকভাবে এই নির্বাচন দেশবাসী উপভোগ করেছে। দেশবাসী অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। তিনি ১১ দলীয় জোটের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, সচেতন ও দায়িত্বশীল জনগোষ্ঠী কখনো হার মানে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২৯৯ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করবেন।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, এনসিপির মনিরা শারমিন, এবি পার্টির আলতাফ হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির এস এম ইউসুফ আলী, মো. মিরাজ খান, প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু ও অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান।