ঠাকুরগাঁও জামায়াত আমিরের ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার: মুখপাত্র বললেন, 'ব্যবসার টাকা, নির্বাচনী নয়'
জামায়াত আমিরের ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার: মুখপাত্রের বক্তব্য

ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমিরের ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার: মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়া

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃত টাকার পরিমাণ অন্তত ৫০ লাখ টাকা। এই ঘটনার পরপরই জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দলটির মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন এবং ঘটনাটি নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

মুখপাত্রের বক্তব্য: 'ব্যবসার টাকা, নির্বাচনী নয়'

এহসানুল মাহবুব জুবায়েম জোর দিয়ে বলেছেন, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, এই অর্থ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নয়, বরং এটি বেলাল উদ্দিনের ব্যবসার টাকা। তার মতে, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

আটকের বিস্তারিত ঘটনা

পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে, মাওলানা বেলাল উদ্দিন বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে থামায়। তল্লাশি চালানো হলে তার কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে, ওই ব্যাগে ৫০ লাখ টাকা ছিল।

আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে।

জামায়াতের পরবর্তী পদক্ষেপ

মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, এই বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সেখানে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থেকে ঘটনাটির ব্যাখ্যা দেবেন এবং দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরবেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দলটি এই ঘটনাকে সুষ্ঠুভাবে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত এবং কোনো প্রকার অপপ্রচার বা ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে নির্বাচনী সময়ের কাছাকাছি সময়ে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ঘটনা আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে বলা হচ্ছে, এটি একটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক লেনদেন, যার সাথে দল বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।