জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রী শূন্যতার চিত্র
আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই বহুল প্রতীক্ষিত ভোটের জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণার পর থেকেই শহর ছেড়ে হাজার হাজার মানুষ গ্রামের দিকে ছুটে চলেছেন। গতকাল নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও, ভোটের একদিন আগে অর্থাৎ বুধবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মহাসড়কে যাত্রী শূন্যতা ও নিস্তব্ধ বাসস্ট্যান্ড
শিমরাইল ও সাইনবোর্ড এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বাসস্ট্যান্ডগুলো প্রায় নিস্তব্ধ। দূরপাল্লার বাসগুলো দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও স্বল্প সংখ্যক যাত্রী নিয়ে যাত্রা করছে। যাত্রীর চাপ কম থাকায় সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে, যা গতকালের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
বাসের টিকিট কাউন্টারে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গতকাল যাত্রীদের ভিড়ে তাদের কাজ করতে অত্যন্ত কষ্ট হয়েছিল। প্রতিটি যাত্রীর চাহিদা মেটাতে তারা ব্যস্ত থাকলেও, আজ যথেষ্ট সংখ্যক গাড়ি থাকা সত্ত্বেও যাত্রী সংখ্যা অত্যন্ত কম।
চালক ও পুলিশের বক্তব্য
কুমিল্লা ও ফেনীর দূরপাল্লার বাস চালক জাকির বলেন, "যাত্রী নেই বললেই চলে। যারা রয়েছেন, তারা মূলত কুমিল্লা ও ফেনী পর্যন্ত যাচ্ছেন। শহরের যাত্রীরা ইতিমধ্যেই গ্রামে পৌঁছে গেছেন, তাই আজকের এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে।"
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুর জানান, গতকালের তুলনায় আজ যাত্রী ও গাড়ির চাপ অনেক কম। তিনি উল্লেখ করেন, "ঘরমুখো কিছু যাত্রী থাকলেও সামগ্রিকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা সড়কে অবস্থান করছি এবং নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিস্থিতি নজরদারি করছি।"
এই অবস্থা থেকে স্পষ্ট যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে অধিকাংশ মানুষ ইতিমধ্যেই তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে গেছেন, ফলে মহাসড়কে যাত্রী শূন্যতা দেখা দিয়েছে। এটি ভোটারদের অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের আগ্রহের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
