দেশে বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে ২৭ হাজার, জমা হয়নি ২০ হাজার: নির্বাচনী কড়াকড়ি
বৈধ অস্ত্র জমা ২৭ হাজার, জমা হয়নি ২০ হাজার

দেশে বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে ২৭ হাজার, জমা হয়নি ২০ হাজার: নির্বাচনী কড়াকড়ি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সারা দেশে ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ বা লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা পড়েছে। তবে এখনও ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র জমা পড়েনি বলে জানা গেছে।

অস্ত্র জমার পরিসংখ্যান ও আইনগত হুমকি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তির নামে মোট ৪৮ হাজার ২৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৯৯৫টি অস্ত্র জমা দেওয়া হলেও ২০ হাজার ২৮৮টি এখনও জমা হয়নি। আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে, গত ১৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা না দিলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জমা না হওয়া অস্ত্রের পিছনে রাজনৈতিক প্রভাব

জমা না হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে আওয়ামী লীগের মেয়াদে লাইসেন্স পাওয়া অস্ত্রই বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অস্ত্রের মালিকদের অনেকেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন, আবার দেশের ভেতরে অনেকে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। এই পরিস্থিতি নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পুলিশের পদক্ষেপ ও আইজিপির বক্তব্য

নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সব পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে থানা থেকে লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্রের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, "যে কোনো অস্ত্র থ্রেট। এর বাইরে বিভিন্নভাবে অস্ত্র দেশে প্রবেশ করে। সেজন্য মোকাবিলা করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।"

এই পদক্ষেপগুলি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে জমা না হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।