শায়খ আহমাদুল্লাহর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সমর্থন ও মূল্যবোধ রক্ষার জোরালো আহ্বান
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন জনপ্রিয় আলেম ও আলোচক আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং ইতিবাচক সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে থাকার ঘোষণা দেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার
শায়খ আহমাদুল্লাহ তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ যেন কোনো প্রকারের ব্যত্যয় বা মূল্যবোধের অবক্ষয় না হয়, বরং এটি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অক্ষুন্ন রেখে পরিবর্তনের একটি দৃঢ় অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন যে সংস্কার সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখেই বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে কোনো প্রকারের বিচ্যুতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
আলেমদের অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ
এক্ষেত্রে নিশ্চিতকরণের জন্য শায়খ আহমাদুল্লাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখেন। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সংস্কার কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নির্বাচিত সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হবে। এই অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সহজতর হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
নির্বাচন ও গণভোটের প্রক্রিয়া
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সারাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এবং একই দিনে জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দুটি আলাদা ব্যালটে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
- প্রথম ব্যালটটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য, যেখানে ভোটাররা তাদের পছন্দের সংসদ সদস্য প্রার্থীর প্রতীকে ভোট দেবেন।
- দ্বিতীয় ব্যালটটি হবে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর গণভোটের জন্য, যেখানে ভোটাররা প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন আছে কি না, সেই প্রশ্নের বিপরীতে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেবেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহর এই অবস্থান গণভোটের প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
