ভোটের টানে দেশ ছাড়ছে রাজধানীবাসী, কমলাপুর স্টেশন পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন সামনে রেখে ভোট উৎসবে মেতেছে সারাদেশ। সেই উৎসবে অংশ নিতে আজও ঢাকা ছাড়ছে রাজধানীবাসী। গত দু’দিনের মতো আজও রেলস্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালে ভিড় করছেন মানুষেরা। কেউ পরিবার নিয়ে তো, কেউ যাচ্ছেন একা। ট্রেন ও বাসে ঈদের ছুটির মতো মানুষের চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই আসন না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে পড়ছেন। অনেকে বাস না পেয়ে যাচ্ছেন ট্রাকে করে। মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে যানজটও তৈরি হয়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে বাড়তি যাত্রীর চাপ
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন, “গত তিনদিন ধরে বাড়তি যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোট উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি থাকায় যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রাজশাহী অভিমুখী পদ্মা এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল করে গতকাল ও আজ ট্রেনটি চালানো হচ্ছে। বুধবার ৪৩টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস এবং ২৬টি মেইল ও লোকাল কমিউটার ট্রেন চলাচল করছে।” স্টেশনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় রয়েছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএমবি)। যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিং, টিকিট চেক এবং ডিজিটাল ক্যানিংয়ের মাধ্যমে স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
ভোট কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ
ভোটকে কেন্দ্র করে রেল স্টেশনে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। অনেকের চোখেমুখে দেখা যাচ্ছে প্রথমবার ভোট দেওয়ার উচ্ছ্বাস। সব মিলিয়ে ভোটের টানে কমলাপুর রেলস্টেশন এখন মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। রাজশাহীর উদ্দেশে যাওয়া যাত্রী আরাফাত ইসলাম বলেন, “বাসের টিকিট পাওয়া কঠিন। যানজটও বেশি, ভাড়াও চড়া। তাই ট্রেনকেই বেছে নিয়েছি। ট্রেন ভ্রমণ তুলনামূলক নিরাপদ। তবে, আজ আসন না পেয়ে দাঁড়ানোর টিকিট কেটে যেতে হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “অনেকে প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছে। সবার চোখেমুখে আলাদা আনন্দ দেখা যাচ্ছে, এটা দেখতে ভালো লাগছে।”
প্রথমবার ভোটারদের আনন্দ
রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী সাঈদ আহমেদ বলেন, “প্রথমবার ভোট দেবো, ঈদের মতো আনন্দ লাগছে। আমি ও আমার স্বামী একসঙ্গে বাড়ি যাচ্ছি। এ যেন অন্যরকম অনুভূতি।” অন্যদিকে গাবতলী, মহাখালী, আব্দুল্লাহপুর ও সায়দাবাদ টার্মিনালগুলোতে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে, বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত বিশেষ ছুটিতে অন্যান্য শ্রেণি–পেশার মানুষের পাশাপাশি বাড়িতে যাচ্ছেন কারখানার শ্রমিকেরাও। আজ সকালেও গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জ এলাকার মহাসড়কগুলোতে মানুষদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
