রাজশাহীতে নির্বাচন: ৬৭.৪৮% ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, ব্যালট পেপার পৌঁছেছে
রাজশাহীতে ৬৭.৪৮% ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

রাজশাহীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ৬৭.৪৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের প্রস্তুতিতে রাজশাহী জেলার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর মোট ভোটকেন্দ্রের ৬৭ দশমিক ৪৮ শতাংশকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এবং জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকাগুলো, যেখানে অতীতের সহিংসতার রেকর্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রের শ্রেণিবিভাগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে মোট ২১৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলোকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৮৭টি কেন্দ্রকে, গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ১১৬টি এবং সাধারণ হিসেবে ১২টি কেন্দ্রকে। অন্যদিকে, জেলা পুলিশের আওতায় ৫৬১টি কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে ৩২২টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৪৯টিকে সাধারণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে, আরএমপির অধীনে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে চার জন করে অস্ত্রসহ পুলিশ, দুই জন অস্ত্রধারী আনসার, এবং প্রতি কেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন পুলিশ ও নারী আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে তিন জন করে অস্ত্রধারী পুলিশ, দুই জন অস্ত্রধারী আনসার, এবং লাঠিসহ ১০ জন পুলিশ ও নারী আনসার থাকবেন। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

ব্যালট পেপার বিতরণ ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি

নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে, রাজশাহী-২ (সদর) আসন বাদে বাকি পাঁচটি সংসদীয় আসনের জন্য ব্যালট পেপার ইতোমধ্যেই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টা থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জেলার ৯টি উপজেলায় এসব ব্যালট পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি বহরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা ব্যালট পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

রাজশাহী জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান জানান, ‘ইতোমধ্যেই জেলার সব উপজেলায় ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর ব্যালটগুলো নির্ধারিত স্টোর রুমে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পর্যায় থেকে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হবে। রাজশাহী-২ (সদর) আসনের ব্যালট পেপার ১১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হবে।’

পুলিশ ও নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন উল্লেখ করেন, ‘রাজশাহী জেলায় আটটি থানায় ৫৬১টি কেন্দ্র আছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র আছে ৩২২টি। সাধারণ কেন্দ্র আছে ২৩৯টি। প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান যোগ করেন, ‘আরএমপির অধীনে কেন্দ্রগুলো তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ এবং আরেকটি সাধারণ। নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এই প্রস্তুতিগুলো নির্বাচনী দিনে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজশাহীর ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।