জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ থেকে দুইশ বিলিয়ন ডলার লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাওয়ায় বড় বাজেট প্রণয়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি অর্থমন্ত্রীও উল্লেখ করেছেন। ফলে বর্তমান সরকারকে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে।
কমলনগরে খাল খনন পরিদর্শন
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় খাল খনন পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শূন্য থেকে শুরু করতে চাই
হুইপ নিজান বলেন, আমরা শূন্য থেকে শুরু করতে চাই। আমি জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার কক্ষ থেকেই আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির রেখে যাওয়া এক কোটি ৬৮ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে। অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও হাওড়াঞ্চলের পানি বৃদ্ধি
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বিরাজ করছে, যার প্রভাব দেশেও পড়ছে। হাওড়াঞ্চলে পানি বৃদ্ধি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এটিকে প্রাকৃতিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার অঙ্গীকার
তিনি বলেন, আমি হুইপ থাকি বা না থাকি, সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলব। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি। আল্লাহ আমাদের অতীতেও সহায়তা করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন।
দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চাকরি বা ব্যবসার প্রয়োজনে সহায়তা করা হবে, তবে দুর্নীতি, ঘুষ, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তিনি সততা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া
প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রীদের দেখা করতেও কষ্ট হয়; কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আমাকে এমন জায়গায় বসিয়েছেন যে সবসময়ই দেখা হয়। তিনি সাদাসিধাভাবে চলাফেরা করেন। প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি ক্যান্টিনের ভাত খান। কোনো প্রটোকল ছাড়া চলাফেরা করেন। তার মধ্যে হিংসা বা অহংকার নেই। আল্লাহতায়ালা তাকে হায়াত বাড়িয়ে দিন। প্রয়োজনে আমার হায়াতও তাকে দিয়ে দিন। আমি মন থেকে দোয়া করছি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম. দিদার হোসেন এবং কমলনগর প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক মুছা কালিমুল্লাহসহ স্থানীয়রা।



