ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন ছিল আজ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় শুরু হয় অধিবেশন। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সাধারণত সংসদে যেমন গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়, তেমনি মাঝেমধ্যে উঠে আসে নানা ছোট ছোট ঘটনা, মন্তব্য কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত—যেগুলো আলাদাভাবে নজর কাড়ে। এসব টুকিটাকি বিষয় কখনও উসকে দেয় বিতর্ক, আবার কখনও তৈরি করে হাস্যরস। বুধবার সংসদে ঘটে যাওয়া এমনই কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা তুলে ধরা হলো।
প্রেমের কী স্বাদ বলো, যদি কাঁটা না থাকে
সংসদ অধিবেশনে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী দলের সদস্যদের ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উনারা (বিরোধীদল) বয়কট করেছেন, উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন, এখনও যেমন উত্তেজনা সৃষ্টি করলেন। এতটুকু যদি না থাকে... প্রেমের কী স্বাদ বলো, যদি কাঁটা না থাকে। আমরা সেই কারণে, মাননীয় স্পিকার, বলছি—আসেন বাংলাদেশকে গড়ি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া যে বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। অনেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা বলেছেন, খালেদা জিয়ার কথা বলেছেন। আসেন সেই স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে হেঁটে চলি। যদি আমরা ব্যর্থ হই, তাহলে কবি হেলাল হাফিজের ভাষায়—আমরা উত্তরপুরুষের ভীরু কাপুরুষের উপমা হয়ে থাকব। নিশ্চয়ই আপনারা সেটা চান না, আমরাও চাই না। আসেন সেই পথ ধরে হাঁটি।’ আইনমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে সংসদে হাসির রোল পড়ে।
‘আপনি চালান না, দেখি কী স্পিড আপনার’
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের নাম ডাকেন স্পিকার। তাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয় ছয় মিনিট। এ সময় গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি ছয় মিনিটে বক্তব্য রাখতে পারব না।’ এ সময় স্পিকার বলেন, ‘আপনি চালান না, দেখি কী স্পিড আপনার।’ জবাবে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ‘চালাবো, আমাকে আরও ছয় মিনিট দিতে হবে।’ স্পিকার বলেন, ‘আপনি শুরু করেন।’
হাসপাতাল ইকুইপ করার শর্তে সময় বাড়ানোর প্রস্তাব
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিতে নরসিংদী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেনকে আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে বক্তব্যের জন্য সময় দেওয়া হয় আট মিনিট। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মজা করে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, অনেককে আপনি সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন—কেউ আপনাকে চা খাইয়েছে, কেউ সময় দিয়েছে, কেউ আপনার সঙ্গে উকালতি করেন, কোর্টের বারান্দায় ঘুরেছেন—তাই সময় পেয়েছেন। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের একজন কমান্ডার ছিলাম, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে যুদ্ধ করেছি। কাজেই আমাকে তাদের বদলে সময় ডাবল দিতে হবে।’ জবাবে ডেপুটি স্পিকার হাসতে হাসতে বলেন, ‘আপনি যদি আমার দুই থানার দুই হাসপাতাল একদম ইকুইপ করেন, তাহলে দুই মিনিট বাড়াবো।’
অধিবেশন চলাকালে অসুস্থ সংসদ সদস্য
অধিবেশন চলাকালে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময় গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে থামিয়ে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, একটু অপেক্ষা করেন—আমাদের একজন সংসদ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মাননীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার কী অসুস্থ? এখানে একজন ডাক্তার রয়েছেন, আমরা পাঠাচ্ছি। ডাক্তার যাচ্ছেন ওখানে। সেখানে কি ডাক্তার পৌঁছেছেন? ডাক্তার থাকলে হাত তোলেন।’
গণভোটে ‘আধা প্রেম, আধা প্রতারণা’
জাতীয় সংসদে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লিফলেট পাওয়া গেছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিরোধী দল কেন সংস্কার চায়, সেখানে কয়েকটি পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও জুলাই সনদের কথা বলা নেই। এখানে গণভোটের কথা বলা হয়েছে, যা জুলাই সনদ থেকে বিচ্যুত। এটি সংবিধান ও আইনের সঙ্গে প্রতারণা।’ তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে ৩৩টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল, কিন্তু লিফলেটে সেটির উল্লেখ নেই। গণভোটের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান—আধা প্রেম, আধা প্রতারণা।’



