প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে জঙ্গি রয়েছে এবং সরকার জঙ্গি তৎপরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য কাজ করবে। আজ সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকের প্রশ্ন ও উপদেষ্টার জবাব
সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আগে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল, দুদিন আগে হামলার শঙ্কা এবং গতকাল বিমানবন্দর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেছেন দেশে প্রকৃত অর্থে জঙ্গি নেই। এখন প্রশ্ন হলো, সরকার কি সত্যিই মনে করে দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই? সরকারের কাছে কতখানি তথ্য আছে?
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, 'প্রথম কথা হচ্ছে, সরকারের কাছে কতখানি তথ্য আছে, এটা বলা যাবে না। এটা একটা সংবেদনশীল তথ্য, গোপন থাকবে। কিন্তু সেটুকু তথ্য সরকার জানিয়েছে, এটা ফ্যাক্ট। বাংলাদেশে জঙ্গি আছে।'
দুই সরকারের বক্তব্য 'এক্সট্রিম'
দেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যা বলা হতো এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যা বলা হয়েছে—এ দুটো ভাষ্যই 'এক্সট্রিম' (চরম পর্যায়ের) বলে মনে করেন তিনি। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জঙ্গি সমস্যাকে যে মাত্রায় দেখানো হয়েছে, সেটা তাদের ক্ষমতায় থাকার একটা 'ন্যারেটিভ' (বয়ান) হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তারা বলত বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, জঙ্গিরা সব দখল করবে। সুতরাং তাদের নির্বাচন করল কি না, সেটা দেখার দরকার নেই, তাদের ক্ষমতা রাখো। সে জায়গা থেকে ওই সরকারের সময় জঙ্গিবাদ নিয়ে অতিরঞ্জন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, 'পরবর্তী সময়ে যে সরকারের সময়, ইন্টেরিমের সময় কেউ কেউ আলাপ করার চেষ্টা করেছেন যে বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই। এটাও আরেকটা এক্সট্রিম। এটাও ভুল কথা,' বলেন তিনি।
জঙ্গি মোকাবিলায় সরকারের অবস্থান
জাহেদ উর রহমান বলেন, 'বাংলাদেশে একটা পর্যায়ে মিলিট্যান্সি–জঙ্গিবাদ ছিল, আছে। সেটাকে আমরা আসলে কমব্যাট (মোকাবিলা) করতে চাই। এবার এই সতর্কতার মানে হচ্ছে, এটা খানিকটা ঝুঁকি তৈরি করেছে। কারণ, দেড় বছর ইন্টেরিম সরকারের সময় আমরা খেয়াল করেছি, এই প্রবণতার মানুষদের অনেক বেশি সংগঠিত হওয়া বা পাবলিকলি আসা বা ওপেনলি আসার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। সেটারই খানিকটা ইমপ্যাক্ট। আমরা বলতে চাই, এই সরকার এগুলো কমব্যাট করবে। জনগণকে এটুকু বলতে চাই, এই ঝুঁকি এমন না যে এটার জন্য ভয় পেতে হবে। কিন্তু সেই পুরোনো কথা আমরা যদি কোনো একটা সংকটকে বা ডিজিজকে স্বীকার না করি, এটার চিকিৎসা হবে না। আমরা এটাকে একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করব।'



