সংসদে এনসিপি শক্ত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায়, জামায়াত দুর্বল: রুমিন ফারহানা
সংসদে এনসিপি শক্ত প্রভাবের চেষ্টায়, জামায়াত দুর্বল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেছেন যে, সংসদে জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) অনেক বেশি সোচ্চার এবং শক্ত বিরোধী প্রভাব তৈরি করতে চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে জামায়াতকে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনসিপি ও জামায়াতের জোট সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, তাদের পারফরম্যান্স বিচার করার অধিকার তার নেই। তবে এনসিপির বক্তব্য থেকে তার কাছে মনে হয়েছে, এটি আদর্শিক জোট নয়, বরং নির্বাচনি ও কৌশলগত একটি জোট।

সংসদে সাধারণ দর্শকের মতো পর্যবেক্ষণ করে তিনি দেখেছেন, এনসিপি অনেক বেশি ভোকাল এবং সংসদে শক্ত বিরোধী প্রভাব তৈরি করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে জামায়াতকে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি শুধু তার নিজের পর্যবেক্ষণ নয়, অন্যদের সঙ্গেও কথা বলে তিনি এই ফিডব্যাক পেয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিরোধী দলের দুর্বলতা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে দুই দিনের মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারি দল আইনি পয়েন্টগুলো যেভাবে স্পষ্ট করেছে, তার পাল্টা আইনি যুক্তিতর্ক বিরোধী দলের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। সরকারি দলে যেমন আইনজীবী আছেন, বিরোধী দলেও প্র্যাকটিসিং আইনজীবী রয়েছেন। সাধারণ মানুষ আশা করেছিল যে, আইনি যুক্তিতর্ক আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে বিরোধী দল, কিন্তু সেখানে এক ধরনের কমতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক বেশি আবেগময় বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা দোষনীয় না, তবে আইনি বিষয়ে আরও জোরালো যুক্তি দেওয়া যেত।

মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগকে আধুনিক ও স্বাধীন করার উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাজদার হোসেন মামলা ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালেও মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমনকি মাজদার হোসেনের বার কাউন্সিল সনদ স্থগিত করা হয়েছে। এসব বিষয়ে সংসদে ঝড় তোলা যেত, কিন্তু বিরোধী দল তা করতে পারেনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি নিজে এ বিষয়ে সংসদে কথা বলতে চেয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারি দল বোধগম্য কারণে তাকে এক মিনিটও সময় দিতে চায়নি। তিনি চিফ হুইপকে বহুবার অনুরোধ করেছিলেন জুলাই সনদ আলোচনায় পাঁচ মিনিট সময় দেওয়ার জন্য, কিন্তু অনুমতি মেলেনি। অন্যদিকে বিরোধী দল নিজেকে এতই যোগ্য মনে করে যে, তারা ভেবেছে রুমিন ফারহানার কথা বলার প্রয়োজন নেই। ফলে তিনি সরকারি দল এবং বিরোধী দল উভয়ের কাছ থেকেই সময় পাননি।