সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল করে বিল পাস
এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল করে বিল পাস

সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রেমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) (সংশোধন) অ্যাক্ট-২০২৬’ পাসের প্রস্তাব সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সবার সম্মতিতে পাস হয়।

বিল পাসের দিনক্ষণ

রবিবার (২৬ এপ্রিল) স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়াদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিনে বহুল আলোচিত এই বিলটি পাস হয়। বিল পাসের সময় অধিবেশনে উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য টেবিল চাপড়ে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

সুবিধা বাতিলের প্রভাব

বিলটি পাস হওয়ায় এখন থেকে সংসদ সদস্যরা (এমপি) আর শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুযোগ পাবেন না। সাধারণ নাগরিকদের মতো সংসদ সদস্যদেরও গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত শুল্ক ও কর প্রদান করতে হবে। এত দিন সংসদ সদস্যরা কোনও প্রকার শুল্ক বা ট্যাক্স ছাড়াই বিদেশ থেকে দামি গাড়ি আমদানির আইনি সুবিধা ভোগ করতেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিলের উদ্দেশ্য ও যুক্তি

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ-সদস্যদের নিজের নামে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি একদিকে যেমন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, অপরদিকে তেমনি এ ধরনের শুল্কমুক্ত সুবিধা কর প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের মালিক জনগণের সঙ্গে দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সঙ্গে সাম্য প্রতিষ্ঠাকল্পে ওই সুবিধা বাতিল করার জন্য এই বিলটি আনা হলো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহ

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করে আসছিলেন, যা নিয়ে জনমনে সমালোচনা ছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের প্রথার অবসান ঘটল। এর আগে ২৩ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদের সভায় সংসদ সদস্যদের এই সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। তার আগে সরকার ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।