সংসদে নোয়াখালী বিভাগের দাবি: হান্নান মাসউদের জোরালো বক্তব্য
জাতীয় সংসদে নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার জোরালো দাবি তুলেছেন হাতিয়ার এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ। বুধবার সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি উপস্থাপন করেন।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
হান্নান মাসউদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ১৯৯৪ সাল থেকে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী অঞ্চলের মানুষ বিভাগের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছে। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে এ অঞ্চলের রয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা ও পরিচিতি।
তিনি নোয়াখালীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ব্রিটিশ সরকার ১৭৭২ সালে মাত্র ১৮টি জেলা ঘোষণা করলে নোয়াখালী ছিল তার অন্যতম। ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক গুরুত্বের কারণে এ অঞ্চলে একটি বড় বিমান ঘাঁটিও নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া, ভুলুয়া নামক নদীবন্দর ছিল দক্ষিণাঞ্চলের সবচাইতে বড় নদীবন্দর, যা অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত মূল্যকে তুলে ধরে।
আন্দোলন-সংগ্রামে নোয়াখালীর ভূমিকা ও বর্তমান বঞ্চনা
বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের ভূমিকার কথাও সংসদে তুলে ধরেন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, খেলাফত আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান সব ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষ সম্মুখসারিতে থেকে আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তবে, তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এরপরও অঞ্চলটি বঞ্চনার শিকার হয়েছে। রাজনৈতিক নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলটি উন্নয়ন ও প্রশাসনিক দিক থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে, এবং এখানকার জনগণ বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছে।
সময়সীমার সীমাবদ্ধতা ও সরকারের প্রতি আহ্বান
বক্তব্যের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় বিভাগ ঘোষণার দাবিতে সরকারের কাছে নির্দিষ্ট কী পদক্ষেপ চাওয়া হচ্ছে, সেই অংশ বিস্তারিত বলতে পারেননি হান্নান মাসউদ। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে তার এ বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করে।
এ ঘটনাটি নোয়াখালী অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবিকে জাতীয় পর্যায়ে পুনরুজ্জীবিত করেছে, এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।



