জাতীয় সংসদে ঐকমত্য কমিশনের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি সংসদ সদস্য
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ঘরে-বাইরে, সংসদে এবং রাজপথে ঐকমত্য কমিশন নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের তেমন কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না।’
‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’ – সেলিমের অভিযোগ
শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, কমিশনের প্রথম মিটিংয়ে ডেকে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল ভোটারদের বয়স ১৭ বছর, প্রার্থীদের বয়স ২৩ বছর এবং সংসদের মেয়াদ ৪ বছর করতে হবে। তখনই আমরা বুঝে গিয়েছি, ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’। তিনি দাবি করেন, কমিশনের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকে প্রলম্বিত ও বিলম্বিত করা। তবে বিএনপির প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন সাহেব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করে জাতিকে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যান।
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে অভিযোগ
সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্য আরও অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে ব্যস্ত রাখার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘৫১ একর জমি ৪৮ বছরের জন্য মাত্র ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে, যা অসম চুক্তি। বাংলাদেশে হাজারো উদ্যোক্তা রয়েছেন যারা এই বিনিয়োগ করতে পারেন।’ নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে তিনি যে কোনো প্রতিবাদে রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন।
মহাত্মা গান্ধী প্রসঙ্গে মিথ্যা দাবির খণ্ডন
নিজের নির্বাচনী এলাকা লক্ষ্মীপুরের করপাড়া গ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘যদিও বলা হয়, আমরা মহাত্মা গান্ধীর ছাগল খেয়ে ফেলেছি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের সূচনা এই গ্রাম থেকে হয়েছিল এবং মহাত্মা গান্ধী দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
সংসদীয় আলোচনায় অন্যান্য বক্তব্য
সেলিম আরও উল্লেখ করেন যে, ঐকমত্য কমিশনের ৮৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রায় ৪৮টিতে তারা ঐকমত্য হয়েছিলেন, কিন্তু সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী এক ব্যক্তি হতে পারবেন না এমন প্রস্তাবের সঙ্গে তারা দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেন, ‘আজকে যদি আমরা বলি যে, বিরোধী দলীয় নেতা এবং দলের প্রধান একজন হতে পারবেন না, এটা কী শোভনীয় বা বাস্তবসম্মত হবে?’
তিনি অভিযোগ করেন, কমিশন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব এনে নির্বাহী বিভাগকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল, যা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিল। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া অধিবেশনে তার এই বক্তব্য উল্লেখযোগ্য আলোড়ন সৃষ্টি করে।



