সংসদে তীব্র সমালোচনা: সরকারের ঋণগ্রহণে লাগামহীন গতি ও রাজস্ব আদায়ে সংকট
জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের ব্যাংকঋণ গ্রহণের লাগামহীন গতি এবং রাজস্ব আদায়ের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে সম্পূরক প্রশ্নে এসব কথা জানান। সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
নতুন সরকারের ঋণগ্রহণ: মাত্র ৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
রুমিন ফারহানা বলেন, "নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ক্রমাগতই বাড়ছে। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনে ব্যাংক থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে বর্তমান সরকার।" তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের দ্রুত ঋণ বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে চলতি অর্থবছরে বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
এবার বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। সেখানে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৮ শতাংশ। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নেওয়া ঋণ ৬৮ হাজার ২২৯ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে।
রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে পড়া: লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৭৫১ হাজার কোটি টাকা কম
অপরদিকে, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের আট মাসে লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে আছে প্রায় ৭৫১ হাজার কোটি টাকা। রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তোলেন, "মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমার প্রশ্ন, আমরা রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে এবার নতুন কোনও পরিকল্পনা নিচ্ছি কিনা, করের আওতা বাড়ানো হচ্ছে কিনা এবং হলে সেটি কীভাবে?"
অর্থমন্ত্রীর জবাব: ক্যারিওভার ইস্যু ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, "আমরা কিন্তু ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুই মাসের মতো সরকারে এসছি। সুতরাং এটা ক্যারিওভার হচ্ছে আগে থেকে। সুতরাং এই সংখ্যাটা এখানে প্রযোজ্য না।" তিনি বিএনপির অর্থনৈতিক নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, "আমি নিশ্চিতভাবে আপনাদের বলতে চাই— আগামী বাজেটে তার পরবর্তী সময়ে আপনারা দেখতে পাবেন সরকার স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কীভাবে কমিয়ে আনছি। ক্রমান্বয়ে এর প্রতিফলন আপনারা আগামী দিনে দেখতে পাবেন। এই বাজেটেও দেখতে পাবেন।"
তিনি সরকার বিগত দিনের অনেক দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বলে জানান, যেখানে ব্যবসায়ীরা অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে এবং ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। তিনি বলেন, "বিএনপি সরকার সেই কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন করবে— আমি আপনাকে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।"
এই বিতর্কে সংসদে সরকারের আর্থিক নীতির উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হচ্ছে।



