ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের মনোনয়ন জমা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করা হয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে জোটের মনোনীত প্রার্থীরা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের আশা
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "নারী আসনে আমরা যে কম্বাইন্ড তালিকা জমা দিয়েছি, এতে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার সুযোগ নেই। আমরা এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার আশা করছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সংসদ সচল থাকায় সময়মতো প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও বিরোধী ভূমিকার প্রত্যাশা
হামিদুর রহমান আযাদ তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, "দেশ ও জাতির স্বার্থে আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে নারীরা এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের সকল অধিকার ও ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। সংবিধানই তাদের এই সুযোগ দিয়েছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে জোটের নারী সদস্যরা বিরোধী দলের কাতারে থেকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, "সরকারের যেকোনো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে আমরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখব, কিন্তু জনবিরোধী সিদ্ধান্ত এলে তার বিরোধিতা করা হবে।" এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে জোটের ১৩ জন নারী সদস্য অন্যান্য বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্যের সঙ্গে মিলে মোট ৯০ জন সদস্য একত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন বলে তাদের প্রত্যাশা রয়েছে।
সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে অবস্থান
গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ায় আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি এবং ভবিষ্যতেও এই বিষয়ে আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।" জোটের এই অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের সক্রিয় ভূমিকারই ইঙ্গিত বহন করে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীত্ব ঘোষণা করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে জোটের এই মনোনয়ন রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



