জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের অভিযোগ: সরকার জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে
জামায়াত নেতার অভিযোগ: সরকার জনগণকে রাজপথে বাধ্য করছে

জামায়াত নেতার তীব্র অভিযোগ: সরকার জনগণকে রাজপথে বাধ্য করছে

রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামের নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে।’’ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা বার এসোসিয়েশন নির্বাচনে আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সবুজ প্যানেলের পরিচিতি অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সংসদে সমাধান না হওয়া ইস্যু রাজপথে আনার সমালোচনা

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘‘যে ইস্যু সংসদে সমাধান হওয়া উচিত, সেটিকে রাজপথে আনা উচিত নয়।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘‘ফলাফলে কারচুপি করে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন—এটা আপনারাও জানেন, জনগণও জানে। গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করবেন না।’’ তিনি বলেন, মানুষ বিচারের কাছে গিয়ে বিচার ও সম্মান পায়, কিন্তু তিনি নিজে অসম্মানিত হয়েছেন এবং অবিচারের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা সংসদে লড়াই করবো এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেও আন্দোলন গড়ে তুলবো। এ ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য

অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী ২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘‘আমরা জুলাই শহীদের মাকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করিয়ে জুলাইকে সংসদে নিয়ে যাচ্ছি।’’ গণভোট ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘‘তারা (বিএনপি) ৭০% জনগণের রায় গণভোটকে বাতিল করে টানেল ও বাঙ্কার নির্মাণের মাধ্যমে প্রমাণ করছে—জনগণের আস্থার জায়গায় তারা যেতে পারবে না।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘দুই মাসে লক্ষ করেছি, সরকার পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং নব্য ফ্যাসিবাদকে স্থানান্তর করছে।’’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচারব্যবস্থা সংস্কারের দাবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘জুলাইয়ের পরে এই বাংলাদেশ অতীতে কখনো কল্পনা করা যায়নি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা চাই, যেখানে বিচারকরা এক্সিকিউটিভের কাছে মাথানত করবে না।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা পরিবর্তিত বিচারব্যবস্থা দেখতে চাই, যেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও আদেশ দিতে দ্বিধাবোধ করবে না।’’ তিনি বলেন, এমন বিচারালয় না হলে স্বাধীন বিচারব্যবস্থার স্বপ্ন ব্যর্থ হবে।

আইনজীবীদের ভূমিকা ও সচিবালয় ইস্যু

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘‘বিচারব্যবস্থা স্বাধীন না হলে এবং আইনজীবীদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য না হলে সমাজের মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকে না।’’ তিনি বলেন, বিচার বিভাগীয় সচিবালয় ছিল, এই সরকার তাদের জুলাই সনদে কোনও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ না থাকলেও তা বাতিল করেছে।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা রিট করেছি; আজ তিনটি আপিল ফাইল হয়েছে। আমরা সচিবালয়ের স্থিতাবস্থা চেয়েছি। আমরা বিজয়ী না হলে আগামী পাঁচ বছরে ন্যায়বিচার বলে কিছু থাকবে না।’’

নির্বাচন ও ভোট রক্ষার আহ্বান

জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘‘জনগণ জিম্মিদশা ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে মুক্তি চায়। তারা চায় তাদের ভোটটা রক্ষা হোক।’’ তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোট রক্ষা করা যায়নি এবং উপনির্বাচনে কারচুপি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘কারচুপি হলে ভোট হবে না, কিন্তু ভোটকেন্দ্র ছাড়া যাবে না। আমরা প্রয়োজনে আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াবো, কিন্তু ভোট বর্জন করা যাবে না।’’

ঢাকা বার নির্বাচন ও ফ্যাসিবাদ মুক্তির কথা

ল’ইয়ার্স ফোরামের সভাপতি মতিউর রহমান আকন বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির পর এই প্রথম ঢাকা বারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে।’’ তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভূতপূর্ব খেলা হয়েছে এবং সরকার গঠনের পর তারা অগণতান্ত্রিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘‘ঢাকা বারের নির্বাচন কমিশন যেভাবে গঠন হওয়ার কথা, সেভাবে হয়নি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।’’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:

  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা বার ইউনিটের সভাপতি ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক
  • সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আবু বাক্কার সিদ্দিক
  • ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনের (২০২৬-২০২৭) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ সবুজ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন
  • সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম
  • সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান (আজাদ)
  • সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বকর সিদ্দিকী
  • সিনিয়র এজিএস মো. শাহীন আক্তার
  • ভূঁইয়া এজিএস মো. মেহেদী হাসান
  • কোষাধ্যক্ষ মো. আজমত হোসেন
  • গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন
  • সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার
  • অফিস সম্পাদক মো. আবদুর রাজ্জাক
  • ক্রীড়া সচিব বাবুল আক্তার (বাবু)
  • সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা
  • তথ্য ও যোগাযোগ সচিব মুস্তাফিজুর রহমান মাসুদ
  • সদস্য পদপ্রার্থীরা হলেন: বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার (শুবর্ণা), জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কায়ুম হোসেন (নয়ন), মো. মাহাসিন (রেজা), মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনুস ব্যালট, মোশাররফ