সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থী মনোনয়ন দিল বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে একাধিক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে দলটির কার্যালয়ে নারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থীর মনোনয়ন
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চারজন প্রার্থী হলেন— নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার ও মাধবী মারমা। বিএনপির মনোনয়নে ব্যতিক্রমধর্মী ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বও গুরুত্ব পেয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর মধ্যে উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি আন্না মিনজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নাটোরের বাসিন্দা আন্না মিনজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
অন্যান্য মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয়
সংরক্ষিত আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর ও মাধবী মারমাও মনোনয়ন পেয়েছেন। সুবর্ণা সিকদার গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এবং মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনীত হয়েছেন।
সুবর্ণা সিকদার মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা এবং একজন শিক্ষিকা। তার মনোনয়নের খবর প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নানা রকম তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন বলে আলোচনা শুরু হয়। তবে সুবর্ণা সিকদার সরাসরি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি বিএনপির একজন সমর্থক। কোনো কমিটিতে নেই।’ তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একসময় যুবদলের নেতা ছিলেন।
অন্যদিকে, মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ার উদ্যোগ
বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়তেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলটি মনে করে, এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া সামাজিক বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্ত অন্যান্য প্রার্থীরা
চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন—
- সেলিমা রহমান
- শিরিন সুলতানা
- রাশেদা বেগম হিরা
- রেহানা আক্তার রানু
- নেওয়াজ হালিমা আর্লি
- মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন
- বিলকিস ইসলাম
- শাকিলা ফারজানা
- হেলেন জেরিন খান
- নিলোফার চৌধুরী মনি
- জেবা আমিন খান
- মাহমুদা হাবিবা
- সাবিরা সুলতানা
- সানসিলা জেবরিন
- সানজিদা ইসলাম তুলি
- সুলতানা আহমেদ
- ফাহমিদা হক
- শামীম আরা বেগম স্বপ্না
- শাম্মী আক্তার
- ফেরদৌসী আহমেদ
- বিথীকা বিনতে হুসাইন
- সুরাইয়া জেরিন
- মানছুরা আক্তার
- জহরত আদিব চৌধুরী
- মমতাজ আলম
- ফাহিমা নাসরিন
- আরিফা সুলতানা
- সানজিদা ইয়াসমিন
- শওকত আর আক্তার
- সেলিনা সুলতানা
- রেজেকা সুলতানা
মোট ৪৭ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা বহন করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



