নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের নিরাপত্তা উদ্বেগ: সংসদে হামলার অভিযোগ
নিজের এবং দলের নেতাকর্মীদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় সংসদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ। সোমবার (২০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি তার ওপর হওয়া একের পর এক হামলার চিত্র তুলে ধরেন।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বলেন, তিনি একটি দুর্গম দ্বীপাঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে ভূমিদস্যু ও জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য প্রকট। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ও পরে অন্তত পাঁচবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও জানান, তার জন্য মসজিদে দোয়া করার অপরাধে এক ইমামের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, যিনি এখনো চিকিৎসাধীন।
সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে হান্নান মাসউদ বলেন, “আমাকে অস্ত্র হাতে কোপাতে আসার ভিডিও ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আমাকে এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন সংসদ সদস্য হয়েও যদি তিনি ও তার কর্মীরা নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে? তিনি ঘটনার সুষ্ঠু সংসদীয় তদন্ত ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংসদের প্রতিক্রিয়া ও আশ্বাস
যদিও কার্যপ্রণালী বিধির কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে হান্নান মাসউদের নোটিশটি সংসদে গৃহীত হয়নি, তবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “একজন সংসদ সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা ও হুমকি কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “যদি হামলার ঘটনাগুলো সত্য হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার কোনো অপরাধীকে ছাড় দেবে না।” মন্ত্রী পরামর্শ দেন যে, হামলা বা হুমকির ঘটনায় ভুক্তভোগী সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা বা জিডি করা প্রয়োজন। অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।
সরকারের প্রতিশ্রুতি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “শুধু হান্নান মাসউদ নন, সংসদের যেকোনো সদস্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় থানাকে অবহিত করতে হবে। সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” এই বক্তব্যে সরকারের দৃঢ় অবস্থান ফুটে উঠেছে, যা নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় আশার আলো দেখাচ্ছে।
এই ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



