ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী নারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রিয়াঙ্কা আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাচ্ছেন।
গত নির্বাচনে পরাজয় ও বর্তমান মনোনয়ন
এর আগে, ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলামের কাছে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন। হাফেজ রাশেদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ৩০ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়েছিলেন, অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা পেয়েছিলেন ৭৭ হাজার ৫২১ ভোট।
ডা. প্রিয়াঙ্কার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা স্থানীয়দের কাছে ডা. প্রিয়াঙ্কা নামে পরিচিত। রাজনীতিতে নতুন মুখ হলেও তিনি চিকিৎসক হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি ধানমন্ডির একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষকতা করেন, যা তার পেশাগত দক্ষতা ও সমাজে অবদানের পরিচয় দেয়।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ডা. সানসিলার জন্ম ১৯৯৩ সালের ২২ জুন। তিনি ২০০৮ সালে এসএসসি পাস করেন এবং ২০১০ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১৬ সালে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রস্তুতির ইঙ্গিত করে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই মনোনয়ন বিএনপির নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডা. প্রিয়াঙ্কার মতো শিক্ষিত ও পেশাদার ব্যক্তিরা সংসদে যোগদান করলে জাতীয় পর্যায়ে নীতি প্রণয়নে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হলেও চিকিৎসা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা তাকে একটি অনন্য অবস্থান দিতে পারে।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী ক্ষমতায়নের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার এই অর্জন তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে, বিশেষ করে যারা রাজনীতি ও পেশাগত জীবনে সমানভাবে সফল হতে চায়।



