বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি মনোনীত হলেন বীথিকা বিনতে হোসাইন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বীথিকা বিনতে হোসাইন। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সহধর্মিণী হিসেবে পরিচিত।
রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা
বীথিকা বিনতে হোসাইন বর্তমানে জনকল্যাণমূলক সংগঠন 'অর্পণ আলোক সংঘ'-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা বজায় রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেত্রী হিসেবে পরিচিত বীথিকা স্বামীর মৃত্যুর পর নিজেকে গৃহবন্দি না রেখে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থেকেছেন।
'অর্পণ আলোক সংঘ'-এর মাধ্যমে দেশজুড়ে নির্যাতিত ও আর্থিক সংকটে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি মানবিক নেত্রী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীথিকা বিনতে হোসাইনের এ মনোনয়ন প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর ত্যাগ ও অবদানের প্রতি দলের সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস
তার এ সাফল্যে রামগতি ও কমলনগর এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কমলনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তারেক রহমান রকি বলেন, 'শফিউল বারী বাবু ছিলেন রাজপথের অকুতোভয় নেতা। তার অসময়ে চলে যাওয়ায় যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল, আজ ভাবি (বীথিকা বিনতে হোসাইন) এমপি মনোনীত হওয়ায় সেই ক্ষত কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সিদ্ধান্তে আমরা কমলনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল গভীরভাবে কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত।' এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বীথিকা বিনতে হোসাইনের মনোনয়ন স্থানীয় উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
মনোনয়ন প্রাপ্তির পর বীথিকার প্রতিক্রিয়া
মনোনয়ন পাওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, 'এ অর্জন আমার একার নয়; এটি শহীদ জিয়ার আদর্শ ও প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর প্রতি জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।' তিনি আরও যোগ করেন, 'দেশনায়ক তারেক রহমান আমার ওপর যে আমানত অর্পণ করেছেন, আমি যেন জনগণের সেবা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করতে পারি- এটাই আমার একমাত্র ও চূড়ান্ত লক্ষ্য।'
মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বীথিকা বিনতে হোসাইন আরও বলেন, 'লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রধান দুর্ভোগ হলো মেঘনা নদীর ভাঙন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদীবাঁধ নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করতে এবং এ জনপদকে রক্ষায় আমি সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকব।'
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এ অঞ্চলের অবহেলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নসহ পিছিয়ে থাকা এ জনপদকে একটি স্মার্ট ও উন্নত অঞ্চলে রূপান্তর করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শফিউল বারী বাবুর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করা এবং জনগণের সেবক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখাই হবে তার মূল লক্ষ্য ও অঙ্গীকার।
বীথিকা বিনতে হোসাইনের এ মনোনয়ন বিএনপির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তার মনোনয়ন দলীয় ঐক্য ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রকাশ হিসেবে কাজ করবে।



