স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জবানে ‘অস্ত্র’ বলে ‘যন্ত্রপাতি’ সংশোধন, সংসদে হাসির রোল
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘অস্ত্র’ বলায় সংসদে হাসি, পরে সংশোধন

জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। জবাব দিতে গিয়ে যন্ত্রপাতি বলতে গিয়ে তিনি বলে ফেলেন ‘অস্ত্র’, যা নিয়ে সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

ভুল শুধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ভুল বুঝতে পেরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে নিজের কথা সংশোধন করে বলেন, “অস্ত্র না আমি বলেছি যন্ত্রপাতি।” এ সময় তিনি সংসদ সদস্যদের কাছে ক্ষমাও চান।

সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদের প্রশ্ন

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সব নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব মানুষের নিকটস্থ সেবা আরও সহজতর করার লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুধু হাসপাতাল না, সঙ্গে জনবল, যন্ত্রপাতি, আইসিইউ এবং পোস্ট অপারেটিভ সেন্টার। স্যরি, মানে মাননীয় স্পিকার স্যার সাহেব, স্যরি। অস্ত্র না আমি বলেছি যন্ত্রপাতি। আর অস্ত্রপচারের জন্য যন্ত্রপাতি, এমনকি মাদার ব্রেস্টফিডিং কর্নারের পর্যন্ত প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অগ্রগতি

সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সংসদ সদস্য স্বাস্থ্যসেবার অনেক গভীরে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশার অবস্থা প্রত্যেকটি উপজেলা হাসপাতালে বা সারাদেশ উল্লেখ করেছেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে আপনার কাছে একটু সময় চাই। আমাদের সরকার অতীত থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে কী করেছে বা কোন জায়গায় এসেছে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাধীনতার পর থেকে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত আত্মপীড়িত জনগণের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম সারা দেশব্যাপী তৎকালীন প্রত্যেকটি থানায় ৩০ থেকে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তৎপরবর্তীতে কোনও সরকার এই খাতে মনোনিবেশ করেননি।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন দ্বিতীয়বারের মত ২০২১-এ ক্ষমতায় আসলেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেই দলেরই প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারা দেশব্যাপী সব উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করেন। একই দলের একই পরিবারের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সব নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব মানুষের নিকটস্থ সেবা আরও সহজতর করার লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।”

ভুল শোধরানোর পর বক্তব্য

স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুনরায় বলেন, “শুধু হাসপাতাল না, সঙ্গে জনবল— অস্ত্র মানে যন্ত্রপাতি, আইসিইউ এবং পোস্ট অপারেটিভ সেন্টার। স্যরি, মানে মাননীয় স্পিকার স্যার সাহেব, স্যরি। অস্ত্র না আমি বলেছি যন্ত্রপাতি। আর অস্ত্রপচারের জন্য যন্ত্রপাতি, এমনকি মাদার ব্রেস্টফিডিং কর্নারের পর্যন্ত প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেটা করেছেন।”