বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে 'ফোকাস কোচিং সেন্টার' বানানোর অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি দাবি করেছেন, নবীনবরণ অনুষ্ঠানে খাবার ও বিভিন্ন উপহার দিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও নৈতিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
ফেসবুক পোস্টে যা বললেন রাশেদ খান
শনিবার (৬ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী তাকে জানিয়েছেন, 'শিবির যেভাবে নবীনবরণে খাওয়াচ্ছে, আগামীর ডাকসু শিবিরের।' একই ধরনের বক্তব্য আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিরিয়ানির বিনিময়ে বিবেক কেনার চেষ্টা
রাশেদ খানের ভাষ্য, বিরিয়ানি ও অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের 'বিবেক কেনা' সম্ভব হচ্ছে, যা তাকে বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন, তার ছাত্রজীবনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন প্রবণতা তিনি দেখেননি। তার মতে, অর্থ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কাছে শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ডাকসু নির্বাচনেও একই কৌশল
তিনি আরও দাবি করেন, গত ডাকসু নির্বাচনেও 'ওয়েলফেয়ার মেকানিজমের' নামে অর্থ বিতরণ ও খাবারের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ কারণে ডাকসুর ঐতিহ্য ও গুরুত্ব আগের মতো নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তিত সংস্কৃতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী বলেন, একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্য শোনার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেন। কিন্তু বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থীর আগ্রহ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কে কী উপহার দেবে বা খাবারের আয়োজন করবে, এমন সংস্কৃতিতে।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে 'কোচিং সেন্টার' বলে মন্তব্য করলেও তা নিয়ে খুব বেশি প্রতিবাদ হয়নি। রাশেদ খানের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিবির কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে 'ফোকাস কোচিং সেন্টার' বানানোর অপচেষ্টাকে এবং নষ্ট ও বিবেক কেনার রাজনীতি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে হবে।



