নেত্রকোনার কলমাকান্দা সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের সামনে টাঙানো সিটিজেন চার্টারে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বাণী দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকাল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলা সদরের সাব রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে ডেপুটি স্পিকারের আকস্মিক পরিদর্শনের সময় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় তিনি সাবরেজিস্ট্রারের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চান। এ সময় ওই কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করে লেখাটি সরিয়ে ফেলবেন বলে জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে কলমাকান্দা উপজেলা সদর থেকে খারনৈ এলাকায় যাওয়ার পথে হঠাৎ সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সেখানে তিনি সেবা নিতে আসা কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং কার্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এ সময় কার্যালয়ের দেয়ালে টাঙানো সিটিজেন চার্টারে লেখা শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বাণী একজন গণমাধ্যমকর্মী স্পিকারের নজরে আনেন। সেখানে লেখা ছিল, 'সরকারি কর্মচারীদের জনগণের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। তারা জনগণের গোলাম, সেবক, ভাই। তারা জনগণের বাপ, জনগণের ছেলে, জনগণের সন্তান। তাদের এ মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে'।
এ সম্পর্কিত দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই সাংবাদিক সিটিজেন চার্টারে বাম হাতের আঙ্গুল রেখে দেখিয়ে বলেন, 'এগুলো বহু আগে। এগুলো না থাকলে তো ভালো। এসব ডায়ালগ এখন তো...'। এরপর ডেপুটি স্পিকার সাবরেজিস্ট্রারকে বলেন, 'এগুলো তো আগের। তার মানে আপনিও দেখেন নাই নাকি?' এ সময় সাবরেজিস্ট্রার বলেন, 'স্যার দেখিনি, চেঞ্জ করে দিব স্যার'।
তখন ডেপুটি স্পিকার বলেন, 'এই, সমিতির লোকজন এখানে কেডা, তোমাদের চোখে পড়ে নাই? এটা লিখছে। এখন সাংবাদিকের চোখে পড়ছে। নিজের পকেটে ঢুকাও তো খালি, চোখে পড়ব কেমনে?' এক মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডেপুটি স্পিকার বলেন, 'আমি কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ করে এখানে এসেছি। কারণ জানালে ওনারা অনেক কিছু করবেন। এটা আসলে কী; হতভম্ব না, হতাশাও বটে। আর আমি মনে করি যারা এ সমস্ত বিষয় ইগনোর করছেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও উচিত। এখানে সর্বস্তরের একটা দুর্নীতি এটা হয় নাকি?'
তখন সাবরেজিস্ট্রার ডেপুটি স্পিকারকে বলেন, 'এটি ভুলবশত হয়েছে স্যার। আমি এটি সরিয়ে নেব। আমাকে মাফ করে দেন স্যার। আমি এখানে অতিরিক্ত দায়িত্বে। বিষয়টি আমি লক্ষ্য করিনি।'



