৪৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ তানভীর রহমানের সাক্ষাৎকার: স্বপ্ন ও প্রস্তুতি
৪৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ তানভীর রহমানের সাক্ষাৎকার

৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তানভীর রহমান। তিনি পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দিতে যাচ্ছেন। তাঁর স্বপ্ন ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি।

প্রথম আলো: বিসিএস দেওয়ার ইচ্ছা কবে, কীভাবে হলো?

তানভীর রহমান বলেন, তিনি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলেন। সিনিয়রদের দেখে প্রকৌশল পড়ার ইচ্ছা জাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই কোভিড শুরু হয়। পরে বুয়েট ফুটবল কমিউনিটির সোয়াদ ভাইকে ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করতে দেখে বিসিএসের প্রতি আগ্রহ জন্মে। চতুর্থ বর্ষের শুরুতে এ ব্যাপারে বেশি মনোযোগী হন।

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ কৌশল ছিল?

তানভীর জানান, নির্দিষ্ট কোনো কৌশল ছিল না। মাস্টার্স ও চাকরি পাশাপাশি করায় সময় ব্যবস্থাপনার দিকে মনোযোগ দিতে হয়েছে। প্রতিদিন অল্প করে পড়া এগিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন, সেটা ৪ ঘণ্টা বা ৩০ মিনিটই হোক। তিনি ভাগ্যে বিশ্বাস করেন। তাঁর মতে, ১০ শতাংশ প্রচেষ্টা আর ৯০ শতাংশ তাকদির।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরীক্ষার সময় কীভাবে দুশ্চিন্তামুক্ত থেকেছেন?

তানভীর বলেন, বন্ধুবান্ধব ও সিনিয়রদের দিক দিয়ে তিনি ভাগ্যবান। ক্যাডেট কলেজ ও বুয়েটে পড়ায় তাঁর সার্কেল বড়। প্রায়ই ফুটবল খেলতে যেতেন এক্স ক্যাডেট কমিউনিটি বা বুয়েট ফুটবল কমিউনিটির সঙ্গে। পরিবারের সমর্থন ও নামাজ-ইবাদত মানসিক প্রশান্তি দিয়েছে।

বিসিএসের পাশাপাশি অন্য চাকরি করা উচিত?

তানভীর বলেন, তাঁর ক্ষেত্রে চাকরি করাটা জরুরি ছিল। ডিপার্টমেন্টের বন্ধুরা সবাই চাকরিতে ঢুকে পড়েছিল। শুধু বিসিএসের পেছনে লেগে থাকলে মানসিক অশান্তি হতো। গ্রামে থাকায় এলাকার লোকজনের প্রত্যাশাও ছিল। তিনি মনে করেন, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কম্পাস কী?

তানভীরের মতে, প্রতিটি কাজের জন্যই জবাবদিহি করতে হবে, সৃষ্টিকর্তার কাছে। এই জবাবদিহির বাধ্যবাধকতাই তাঁর মূল কম্পাস। সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশ ও স্বার্থের পক্ষে।

বিসিএসে না হলে কী করতেন?

তিনি শিক্ষকতা উপভোগ করেন। বাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বর্তমানে বুয়েটের সিএসই বিভাগে মাস্টার্স করছেন। ৫০তম বিসিএসের রিটেন পরীক্ষাও দিয়েছেন। এবার না হলে আরও একবার চেষ্টা করতেন। মাস্টার্স শেষে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ খুঁজতেন।

জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় কোনটা?

তানভীর বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সময়টাই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল। ক্যাডেট কলেজের চেনা গণ্ডি থেকে বের হয়ে অজানা জগতে আসা, ভর্তি পরীক্ষায় সেকেন্ড চান্স না থাকা, কলেজে ভালো ফলাফলের কারণে প্রত্যাশা বেশি থাকা—সব মিলিয়ে সময়টি প্রতিকূল ছিল। পরিবারের সমর্থন ও আল্লাহর ওপর বিশ্বাস তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।