বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) তিন কনস্টেবলকে ভুয়া বিল দেখিয়ে সরকারের ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৮৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হিসাব শাখায় কর্মরত থাকাকালে অন্য এক কর্মকর্তার কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে তারা জালিয়াতির মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। আজ বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএমপি সদর দপ্তরের উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল হান্নান।
তিন কনস্টেবলের পরিচয় ও বরখাস্তের আদেশ
গত সোমবার বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল হান্নান এ-সংক্রান্ত এক আদেশ জারি করেন। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল মারুফ হাসান, জয়দেব কুমার মজুমদার ও সজীব মিয়া। বরখাস্তের পাশাপাশি তাদের বরিশাল পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জালিয়াতির কৌশল ও অর্থ উত্তোলন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএমপির হিসাব শাখায় দায়িত্ব পালনকালে ওই তিন কনস্টেবল কৌশলে অন্য এক কর্মকর্তার কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুয়া বিল প্রস্তুত করেন। পরে সেই বিলের মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে মোট ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৮৪ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।
তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা
বিষয়টি নজরে আসার পর বিভাগীয়ভাবে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়ায় পুলিশ প্রশাসন ওই তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। পরে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তিন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার) আবদুল হান্নান বলেন, 'ওই তিন পুলিশ কনস্টেবলকে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
পুলিশ সূত্র জানায়, তদন্তে আত্মসাতের পুরো প্রক্রিয়া, অর্থ উত্তোলনের ধরন এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।



