কিশোরকে অন্ধকারে ফেলা মামলার প্রধান আসামি ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
কিশোর অন্ধকারে ফেলা মামলার আসামি গ্রেফতার

সাভার পৌর এলাকার রাজাশন মহল্লায় রিপন ঋষি (১৫) নামে এক কিশোরকে তুলে নিয়ে মারধর করে অন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামিরকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকালে রাজধানীর সদরঘাট জংশন রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সন্ধ্যায় ঢাকা জেলা উত্তরের গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার আসামির পরিচয় ও পূর্ব ইতিহাস

গ্রেফতার মাহাবুব হোসেন সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁ এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই কিশোরকে মারধরের ঘটনায় তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় চাঁদাবাজিসহ আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি সাইদুর ইসলাম।

ঘটনার বিবরণ

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী কিশোরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে বিকালে সাভারের মধ্য রাজাশনের পালোয়ানপাড়া এলাকায় সমবয়সী কয়েকজনের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল রিপন। এ সময় স্থানীয় এক কিশোরের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গায়ে ধাক্কা লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই কিশোরের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে রিপনকে খুঁজে বের করার জন্য তার সহযোগীদের নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন বিকাল ৪টার দিকে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকায় রাজধানী বেকারির সামনে থেকে রিপনকে তুলে মাহাবুব হোসেনের ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা

মারধরের একপর্যায়ে রিপন অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই কিশোর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

মামলা ও গ্রেফতার

এ ঘটনায় নির্যাতিত কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর গত বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেনকে প্রধান আসামি করে চার জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় মাহাবুব ছাড়াও তার সহযোগী মানিক, সজিব এবং আলাউদ্দিন ওরফে আলমগীরের নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, অবৈধভাবে আটকে রাখা, গুরুতর শারীরিক নির্যাতন এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পর গত শুক্রবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মাহাবুব হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়।

ওসি সাইদুর ইসলাম বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মারধরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে এক কিশোর। সেই মামলার প্রধান আসামি তিনি। তাকে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’