ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলাম সিজুকে গুলির ঘটনায় গ্রেফতার কাওছার ভুঁইয়া ওরফে শান্ত ওরফে এসবিকে ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালতে রিমান্ড আবেদন
এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. রাকিবুল ইসলাম। আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, মূল রহস্য উদঘাটন, এজাহারনামীয় পলাতক আসামিকে সনাক্ত পূর্বক গ্রেফতার ও আসামির হেফাজত থেকে আরও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য এই আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনার জন্য সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আসামির ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসামি শান্তকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ব্যবহৃত কার্তুজ, দুটি তাজা কার্তুজ এবং একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় সাইফুল ইসলাম সিজুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে তিনি আহত হলে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় মিরপুর থানায় অস্ত্র আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বরের চৌরঙ্গী মার্কেট এলাকার ৯৬ নম্বর বাসার প্রধান ফটকের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি পর পর চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন।
হামলার কারণ
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তার গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন আসামি শান্ত ওরফে এসবি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে তিনি সিজুর আস্থা অর্জন করেন এবং পরে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।



