নরসিংদীর কিশোরী সুমনা আক্তার তিথি (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রবাসী স্বজনের পাঠানো টাকার লোভে তিথিকে হত্যা ও তার মা আসমা আক্তারকে আহত করে ডাকাতি সংঘটিত হয়। প্রথমে কোনো সূত্র না পেয়ে পিবিআই প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও ‘পাত্র সেজে’ অভিনব অভিযান চালায়। ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে দুই সহোদর রমজান আলী ও হাসিবুর রহমানসহ চারজন গ্রেপ্তার হন। উদ্ধার হয় ১০ লাখেরও বেশি টাকা। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
ঘটনার বিবরণ
২৭ জানুয়ারি নরসিংদী সদর উপজেলায় তিথি ও তার মা আসমা আক্তার তাদের বাড়িতে ছিলেন। প্রবাসী স্বজনদের পাঠানো টাকার খবর পেয়ে একদল দুর্বৃত্ত বাড়িতে হামলা চালায়। তিথিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় এবং তার মা গুরুতর আহত হন। ডাকাতরা ঘটনাস্থল থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
পিবিআইয়ের তদন্ত
ঘটনার পর স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের হয়। প্রাথমিক তদন্তে কোনো সূত্র না মেলায় মামলাটি পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু করে এবং কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল লোকেশন বিশ্লেষণ করে। এক পর্যায়ে তারা ‘পাত্র সেজে’ অভিনব অভিযান চালায়। পিবিআইয়ের একটি টিম নিজেদের পাত্র পরিচয় দিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় যায় এবং সন্দেহভাজনদের ফাঁদে ফেলে।
গ্রেপ্তার ও উদ্ধার
অভিযানে দুই সহোদর রমজান আলী ও হাসিবুর রহমানসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকারও বেশি নগদ অর্থ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পিবিআই জানায়, ডাকাতরা প্রবাসী স্বজনদের পাঠানো টাকার খবর আগেই জেনে ফেলে এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন এবং গ্রেপ্তারকৃতরা জেলহাজতে রয়েছে।
প্রতিক্রিয়া
পিবিআইয়ের এই অভিনব তদন্ত পদ্ধতি প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তিথির পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছে।



