লুঙ্গি পরা তরুণের ‘প্যান্টের পকেট’ থেকে গাঁজা উদ্ধারের অভিযোগে মামলায় অসঙ্গতি
লুঙ্গি পরা তরুণের ‘প্যান্টের পকেট’ থেকে গাঁজা উদ্ধারের অভিযোগে অসঙ্গতি

ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়া নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদের (২৮) বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক মামলার এজাহারে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। পুলিশের দাবি, আটক ইশতিয়াক তার ‘প্যান্টের ডান পকেট’ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা বের করে দিয়েছেন; কিন্তু আটকের সময় তার পরনে ছিল লুঙ্গি। এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে।

আটকের সময় পোশাক ও ভিডিও প্রমাণ

স্থানীয়রা জানান, ডিবি পুলিশ যখন ইশতিয়াককে আটক করে, তখন তার পরনে ছিল লুঙ্গি ও জামা এবং কাঁধে একটি ল্যাপটপের ব্যাগ। কিন্তু ডিবির দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ইশতিয়াক স্বীকার করেন যে তার কাছে গাঁজা আছে এবং তিনি নিজেই তার প্যান্টের ডান পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো ১০০ গ্রাম গাঁজা বের করে দেন। লুঙ্গি পরা একজন ব্যক্তি কীভাবে প্যান্টের পকেট থেকে গাঁজা বের করে দিলেন, তা নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে মামলার এজাহারে আটকের সময় রাত ২টা ১০ মিনিট (২০ জুন দিবাগত) বলা হলেও ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি দিনের আলোয় ঘটে। ভিডিওতে পুলিশ সদস্যরা ইশতিয়াককে থাপ্পড় দিচ্ছেন এবং তার দেহ তল্লাশি করছেন। একপর্যায়ে ইশতিয়াকের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরে পড়ে থাকা একটি বস্তু দেখে ডিবি সদস্যদের বলতে শোনা যায়, ‘এই যে এক পোঁটলা’। বাস্তবে ২০ জুন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লায় নিজের বাড়ির সামনে থেকে ইশতিয়াককে আটক করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাক্ষীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি

মামলায় ডিবি পুলিশ যাদের সাক্ষী হিসেবে দেখিয়েছে, তাদের বক্তব্য এজাহারের সঙ্গে মেলে না। মামলার ১ নম্বর সাক্ষী মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ মামলায় যে ঘটনাস্থল ও সময়ের কথা উল্লেখ করেছে, তিনি সেখানে ছিলেন না। ২০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মরিচ বাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় পুলিশ মোটরসাইকেলে এসে তার নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে নেয়। পরে তিনি জানতে পারেন তাকে মাদক মামলার সাক্ষী বানানো হয়েছে।

মামলার ২ নম্বর সাক্ষী বিনয় কুমার সাহা ঘটনার সময় মূল ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে নিজের দোকানে ছিলেন। তার ছেলে বাঁধন সাহা জানান, পুলিশ তার বাবাকে জোর করে কাগজে স্বাক্ষর করিয়েছে। বিনয় কুমার সাহা নিজে স্বাক্ষর করতে রাজি ছিলেন না।

মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া ও মৃত্যু

গত ২১ জুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইশতিয়াক। ওই দিন সকালেই মধুখালী থানায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি করেন ফরিদপুর ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আহাদুজ্জামান। মামলার পর একমাত্র আসামির মৃত্যু হলে সেই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি।

মামলার এজাহারের অসঙ্গতির বিষয়ে মধুখালী থানার পরিদর্শক (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, ‘ডিবি পুলিশ এজাহার লিখে দিয়েছে। আমরা তা ২১ জুন সকালে মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছি। এজাহারের ভাষায় আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তারা যেভাবে লিখেছে, সেভাবেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।’