আদালতের নির্দেশে দুই ঘণ্টায় কারা হাজির করল সাবেক এমপি সালাম মুর্শেদীকে
আদালতের নির্দেশে দুই ঘণ্টায় হাজির সাবেক এমপি সালাম মুর্শেদী

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে গুলশান-২ আবাসিক এলাকায় ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। আসামিদের মধ্যে সালাম মুর্শেদী কারাগারে রয়েছেন। অসুস্থতা দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ, যা আদালতকে অবহিত করা হয়।

আদালতে হাজির না করায় বিচারকের হুঁশিয়ারি

বেলা ১১টা ১০ মিনিটে শুনানি শুরু হলে আদালতকে জানানো হয় সালাম মুর্শেদী অসুস্থ, তাই তাকে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এ সময় মামলার অপর আসামি মাহবুবুল হকের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম জানান, বিচারক বলেন, “জেল সুপার প্রত্যয়ন দেওয়ার কে? তিনি কি চিকিৎসক? তিনি কীভাবে বুঝলেন তার হেলথ কন্ডিশনের কথা। এক ঘণ্টা সময় ছিলাম। আসামিকে হাজির করবেন। তা না হলে আমি প্রসিকিউশন, কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।”

দুই ঘণ্টার মধ্যে হাজির

পরে আদালত কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সিদ্ধান্ত জানায়। আদালতের নির্দেশের দুই ঘণ্টার মধ্যে সালাম মুর্শেদীকে আদালতে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং আগামী ১৯ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রাখেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্তরা

এ মামলায় অপর আসামিরা হলেন— রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম ও প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) লে. কর্নেল (অব.) এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক এবং কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার, ইফফাত হক ও তার স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল মঈন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি

গুলশানে পরিত্যক্ত প্লট দখলের অভিযোগে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক। তবে এই মামলা থেকে সালাম মুর্শেদীকে বাদ দেওয়া হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ও সরকারি কর্মচারী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে খ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭নং, হোল্ডিং নং-২৯, রোড নং-১০৪ প্লটটি পরিত্যক্ত ২৭ কাঠা সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অবমুক্তকরণ ছাড়াই জাল জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ডপত্র তৈরি করেন। যা পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন করার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সালাম মুর্শেদীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম জানান, আদালতে সালাম মুর্শেদীকে বিমর্ষ ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল এবং তার স্বাস্থ্য অবস্থা নাজুক মনে হয়েছে।