কালীগঞ্জে মাদক কারবারির দাবি: পুলিশকে ৬০ হাজার টাকা মাসোহারা দিই
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের নদীপাড়ার রুপালি খাতুন নামে এক নারী মাদক কারবারি দাবি করেছেন, তিনি প্রতি মাসে থানা পুলিশকে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। শনিবার (১৩ জুন) রাত ১০টার দিকে স্থানীয়রা মাদক কারবার বন্ধ করতে তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পরে পুলিশ স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে রুপালির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২৫ পিস এবং তাঁর ছেলে আল-আমিনের কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ১১ হাজার টাকা উদ্ধার করে। রোববার সকালে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। রুপালি খাতুন (৪০) শহরের নদীপাড়া এলাকার মিজান হোসেনের স্ত্রী এবং আল-আমিন (২২) তাদের ছেলে।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটায় স্থানীয়রা তা প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেন। গত ১১ ও ১৩ জুন পাইকপাড়া গ্রাম থেকে দুই যুবককে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে স্থানীয়রা শহরের নদীপাড়া এলাকার রাসেল ও রুপালি খাতুনের বাড়িতে যান।
স্থানীয় টিটোন হোসেনের বক্তব্য
স্থানীয় টিটোন হোসেন জানান, আমরা ১৮-২০ জন মিলে নদীপাড়ার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারির বাড়িতে গিয়ে তাদের মাদক বিক্রি বন্ধ করতে বলি। এ সময় রুপালি নামের এক নারী মাদক কারবারি আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বলেন- প্রশাসনও আমার কিছু করতে পারবে না, আমি থানা পুলিশকে মাসিক ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করি। কিছুক্ষণ পর সেখানে ওসিসহ পুলিশের একটি টিম উপস্থিত হলে স্থানীয়রা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশ রুপালির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁর ও ছেলে আল-আমিনের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির ১১ হাজার ৭৫ টাকা উদ্ধারসহ তাদের আটক করে।
ওসির প্রতিক্রিয়া
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না যে কালীগঞ্জ থানার কাউকে মাদকের একটি টাকা দিয়েছে। যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে তাহলে আমরা ওয়ান-টুর মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব ইনশাআল্লাহ।



