যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে হুমকিদাতা মুজিবুল হকের ৭ বছরের কারাদণ্ড
মুজিবুল হকের ৭ বছরের কারাদণ্ড, দুর্নীতির অভিযোগে

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে হুমকিদাতা মুজিবুল হকের ৭ বছরের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক রায়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীকে দুর্নীতির মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত বলে ঘোষণা করেছেন।

হুমকির ঘটনা ও আদালতের রায়

মুজিবুল হক চৌধুরী ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর এক জনসভায় তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর অবরোধ কর্মসূচির প্রতিবাদে আয়োজিত ওই সভায় তার দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই বক্তব্যকে ‘সহিংস’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিক্রিয়া জানায়।

দুদকের সরকারি কৌঁসুলি মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, মুজিবুল হক চৌধুরী জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৫৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ। আদালত তাকে সাত বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি একই অঙ্কের অর্থদণ্ডও প্রদান করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগের বিস্তারিত ও তদন্ত প্রক্রিয়া

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে মুজিবুল হক ১৯৯২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবাসে অবস্থান করলেও দেশে অর্থ পাঠানোর কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তদন্ত শেষে দুদক তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২০২৫ সালের ৩ জুলাই আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই রায় ঘোষণা করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ সাহেদ জানিয়েছেন, মামলার পর থেকে চাম্বল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুজিবুল হক পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন, যা তার গ্রেপ্তারের জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পরিণতি

মুজিবুল হক চৌধুরী চাম্বল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার এই মামলা এবং রায় স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আদালতের রায়ে জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তার আইনি পরিণতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই ঘটনা দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমের সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে হুমকিমূলক বক্তব্যের পরিণতির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।