ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ঘুস কেলেংকারিতে রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, তদন্ত শুরু
ছাগলনাইয়ায় ঘুস কেলেংকারিতে রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ঘুস কেলেংকারিতে রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন মিয়াকে স্থানীয় উপকারভোগীদের গাছ বিক্রির টাকা আত্মসাৎ ও ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক আদেশে তাকে ছাগলনাইয়া থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পরশুরাম রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু নাছের জিয়াউর রহমানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও'র অভিযোগ ও দ্রুত পদক্ষেপ

ফেনীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ১২ এপ্রিল ছাগলনাইয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফারহানা পৃথা মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে তার কাছে অভিযোগ করেন। ইউএনও নানা অনিয়মের কারণে তাকে ছাগলনাইয়া থেকে সরিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে বুধবার তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

ছাগলনাইয়ার ইউএনও সৈয়দ ফারহানা পৃথা বলেন, "স্থানীয় সাংবাদিকরা আমার কাছে অভিযোগ জানালে আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। কর্তৃপক্ষ তাকে এখান থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপকারভোগীদের বক্তব্য ও অভিযোগের বিবরণ

উপকারভোগী রোসনা ও ছেমনা আক্তার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের দুই পাশে ২০১১ সাল থেকে ১০ বছরের জন্য গাছ লাগানো হয়। ৩৪ জন উপকারভোগীকে না জানিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা সম্প্রতি গাছ কেটে নিয়ে যান। জানতে চাইলে তিনি উপকারভোগীদের টাকা স্ব-স্ব ব্যাংক হিসাবে জমা হবে বলে জানান।

তারা আরও অভিযোগ করেন, অফিস খরচ বাবদ ৩২ জন সদস্যের কাছ থেকে তিনি ৬৪ হাজার টাকা আদায় করেন। ঘুস নেওয়ার পর রেঞ্জ কর্মকর্তা গা-ঢাকা দিয়েছেন এবং গত কয়েক দিন ধরে তিনি অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন, ফোনও ধরছেন না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত প্রক্রিয়া ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে নেমেছেন পরশুরাম রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু নাছের জিয়াউর রহমান। বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরেজমিন তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অহরহ রয়েছে, তবে এতদিন কেউ মুখ খোলেনি। উপকারভোগীদের অভিযোগের পর তারা বিষয়টি ইউএনওকে জানান, যা দ্রুত পদক্ষেপের দিকে পরিচালিত করে।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ মামুন মিয়ার বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এই ঘটনায় ফেনীতে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।