অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ৬ মে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন, যা বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সিদ্ধান্তে গৃহীত হয়েছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনজীবীর বক্তব্য
দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আজ মামলাটির শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে বিচারক ব্যস্ত থাকায় শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ৬ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আদালতের কার্যসূচির চাপের কারণে এই পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে, যা মামলার প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিলম্ব সৃষ্টি করছে।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ
গত বছরের ১৫ এপ্রিল, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঢাকার গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে, কোনো টাকা পরিশোধ না করেই, অবৈধভাবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এর একটি ফ্ল্যাট দখল নেন ও পরে রেজিস্ট্রি করেন।
ফ্ল্যাটটির বিস্তারিত ঠিকানা হলো ফ্ল্যাট নং-বি/২০১, বাড়ি নং-৫এ ও ৫বি (পুরোনো), বর্তমানে-১১৩, ১১বি (নতুন), রোড নং-৭১। এই ঘটনাটি দুর্নীতির একটি গুরুতর উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা জনগণের আস্থা হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আদালতের অন্যান্য কার্যক্রম ও চার্জশিট দাখিল
গত জুলাই মাসে, আসামি শাহ খসরুজ্জামান হাইকোর্টে একটি রিট করেন, যার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তার তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে চেম্বার আদালতে গেলেও দুদক ‘নো অর্ডার’ আদেশ পায়, যা তদন্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করে। গত ১১ ডিসেম্বর, তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
এই চার্জশিটে উল্লেখিত ধারাগুলো জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির মতো গুরুতর অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা মামলাটির গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করেছে। আদালতের সামনে আসন্ন শুনানিতে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে, যা বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য একটি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে পারে।



