কুতুবদিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুসের বাণিজ্য: জমি রেজিস্ট্রি আটকে রাখার অভিযোগ
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুস না দিলে জমি রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া আটকে রাখার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাব-রেজিস্ট্রার পূর্বাশা বড়ুয়া, প্রধান সহকারী শমরেশ কান্তি দে এবং তিন দলিল লেখক একত্রে কাজ করে এই অফিসকে ঘুস বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন।
ঘুস না দিলে দলিল আটকে রাখা হয়
প্রধান সহকারী শমরেশ কান্তি দের টেবিলে দলিল আটকে রাখা হয় যদি ঘুসের টাকা না দেওয়া হয়। যতক্ষণ না ঘুস আদায় হয়, ততক্ষণ জমি রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে। গত ১২ মার্চ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় 'কুতুবদিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে লাখে ৩ হাজার টাকা ঘুস' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
সংবাদ প্রকাশের প্রায় এক মাস পার হলেও রহস্যজনকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে দ্বীপের বাসিন্দারা স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ঘুস আদায়ের পদ্ধতি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি পে-অর্ডারের বাইরে জমি রেজিস্ট্রি করতে অফিসের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী লাখে তিন হাজার টাকা ঘুস দিতে হয়। দলিল লেখকরা সবুজ সংকেত দিলে জমি রেজিস্ট্রি হয়, অন্যথায় দলিল সম্পাদন আটকে রাখা হয়। এই সিন্ডিকেটের কাছে দলিল গ্রহীতারা জিম্মি দশায় রয়েছেন।
জমি রেজিস্ট্রি শেষ হলে সন্ধ্যায় দলিল লেখক বা তাদের প্রতিনিধি অফিসে গিয়ে প্রধান সহকারী শমরেশ কান্তি দের হাতে ঘুসের টাকা বুঝিয়ে দিয়ে আসেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
মহিউদ্দিন নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, 'আমি লেমশিখালী মৌজা থেকে ২.৬৬ শতক জায়গা মৌজা মূল্য অনুযায়ী ৭০ হাজার টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রি নিয়েছি। শুরুতে জায়গায় মামলা আছে বলে আটকে দেওয়া হয়। পরে অফিস সহকারী শমরেশ কান্তি দের হাতে ৩ হাজার টাকা ঘুস দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করতে হয়েছে। ঘুস দেওয়ার পরে মামলা অনেকটা হাওয়া হয়ে গেছে।'
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ঘুস বাণিজ্য অনেকটা অপেন সিক্রেট। সরকারি খরচ বহন করার পরও ঘুস ছাড়া কোনো জমি রেজিস্ট্রি করা হয় না। প্রধান সহকারী শমরেশ কান্তি দের মাধ্যমেই যাবতীয় ঘুসের লেনদেন হয় দলিল লেখকদের সঙ্গে।
অভিযোগ অস্বীকার
অভিযোগ অস্বীকার করে অফিস সহকারী শমরেশ কান্তি দে বলেন, 'সরকারি রাজস্বের বাইরে কোনো ফি নেওয়া হয় না। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।' এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার পূর্বাশা বড়ুয়ার মোবাইলে কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজারের জেলা রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল করিম বকসী বলেন, 'বিষয়টা সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে দেখে। তারপরও আমি তাদের সতর্ক করে দেব।'



