টেকনাফে মুরগির খামার থেকে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ৫ লাখ ইয়াবার চালান
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পুলিশের একটি অভিযানে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ ইয়াবার বড় চালান উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে পুলিশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী গ্রামে অবস্থিত একটি মুরগির খামার থেকে এই ইয়াবার চালান জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঙ্গিখালী এলাকার নুরুল হোসাইনের মুরগির খামারে অভিযান চালানো হয়।
খামারের মালিক নুরুল হোসাইন, যিনি ওই এলাকার গুরা মিয়ার ছেলে, তিনি অভিযানের সময় পলাতক ছিলেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
পুলিশের তৎপরতা ও উদ্ধার প্রক্রিয়া
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার বলেন, "মিয়ানমার থেকে মাদকের একটি বড় চালান দেশে ঢুকেছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তৎপর হয়। পরে রাত ১১টার দিকে রঙ্গিখালী এলাকার ওই খামারে ইয়াবার চালানটি মজুত করা হয় বলে তথ্য পাওয়া যায়।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, খবর পেয়ে পুলিশ খামারে তল্লাশি চালিয়ে একটি কক্ষের ভেতরে কাঠের নিচে লুকানো অবস্থায় দুটি বস্তা উদ্ধার করে। বস্তা দুটি খুলে দেখা যায়, ৫০টি প্যাকেটে মোট ৫ লাখ ইয়াবা রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা।
মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ইয়াবার চালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তবে আজ শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় নুরুল হোসাইনকে পলাতক আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ধরনের মাদক চালান উদ্ধার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সাফল্য। তবে তারা আরও কঠোর নজরদারি ও অভিযানের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানায়, মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মাদক পাচার রোধে বিশেষ তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
এই ঘটনা টেকনাফ ও কক্সবাজার এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পুলিশ আশা প্রকাশ করেছে যে, দ্রুত অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে এবং মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



