যশোরে বিদ্যালয়ে জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগ: সিআইডির তদন্তে চারজন অভিযুক্ত
যশোরের শার্শা উপজেলার চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জাল সনদ ব্যবহার করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে সিআইডি তিন শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতিকে অভিযুক্ত করেছে। সম্প্রতি সিআইডি যশোর আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে এই জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বাদীর আইনজীবী রুহিন বালুজ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তদের পরিচয় ও তদন্তের ফলাফল
সিআইডির প্রতিবেদনে অভিযুক্ত চারজন হলেন—চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী শিক্ষক (কৃষি) মোছা. সালেহা খাতুন, সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) মো. ইদ্রিস আলী এবং বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু। তদন্তে দেখা গেছে, আবুল কালাম আজাদের ২০১০ সালের শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি ভুয়া, সালেহা খাতুনের ২০০৯ সালের নিবন্ধন সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে এবং ইদ্রিস আলীর ২০১২ সালের নিবন্ধন সনদটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শার্শা আমলী আদালতে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২০১৫ সালে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পান সাতজন শিক্ষক জাল সনদে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে তিনি লিগ্যাল নোটিশ পাঠালে অভিযুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাসান আহমেদ টিংকুর শরণাপন্ন হন।
রুহুল কুদ্দুসের অভিযোগ, ২০১৫ সালের ২০ জুলাই রাতে টিংকু অর্ধশত সন্ত্রাসী নিয়ে তার বাড়ি ঘেরাও করেন এবং বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেন। তার ভাষ্যমতে, টিংকু তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলে ‘আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাল জালিয়াতির ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করিলে তোকে খুন করিয়া ফেলিবো।’ বাদী তৎকালীন শার্শা থানা বিএনপির জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে ছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সে সময় তিনি পিছু হটলেও ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তিনি আদালতে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
সিআইডির প্রতিবেদন ও সুপারিশ
সিআইডি যশোরের উপ-পরিদর্শক বখতিয়ার হোসেন তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাল সনদধারী এই তিন শিক্ষক দীর্ঘ বছর ধরে অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। জালিয়াতি ও হুমকি-ধমকির সত্যতা মেলায় ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সভাপতি হাসান আহমেদ টিংকুসহ এই চারজনকে অভিযুক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এই ঘটনা শিক্ষা খাতে দুর্নীতির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে জাল সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। সিআইডির তদন্ত এখন আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠছে।



