গুলশান ফ্ল্যাট জালিয়াতি মামলায় আদালতের বদলির নির্দেশ, আসামিদের হাজিরার গেজেট প্রকাশ
রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ফ্ল্যাট জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বিচারের জন্য বদলির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৮ এপ্রিল) শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে চার্জগঠন বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা ও গেজেট প্রকাশ
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ অন্যান্য আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। মামলাটির বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এ আদালতে বদলির নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করেন আদালত। ওইদিন আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঢাকার গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনও টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এর ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নং বি/২০১, বাড়ি নং ৫এ ও ৫বি (পুরোনো), বর্তমানে- ১১৩, ১১বি (নতুন), রোড নং ৭১) দখল নেন ও পরে রেজিস্ট্রি করেন।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
মামলার পর চলতি বছরের জুলাই মাসে মামলা তদন্তের আসামি শাহ খসরুজ্জামান হাইকোর্টে একটি রিট করেন। তার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে খসরুজ্জামানের তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। পরে চেম্বার আদালতে গেলেও দুদক ‘নো অর্ডার’ আদেশ পায়। গত ১১ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
এখন আদালতের বদলির নির্দেশের মাধ্যমে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আসামিদের হাজিরা নিশ্চিত করতে গেজেট প্রকাশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



