ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ফিলিং স্টেশন থেকে বিপুল পেট্রোল গায়েব, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল রহস্যজনকভাবে গায়েব হওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ওই ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে আটক করা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও ব্যবস্থাপকের আটক
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত গৌরীপুরের ওই ফিলিং স্টেশনে একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনির। অভিযানকালে কাগজপত্র যাচাই করে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল আনার সত্যতা পাওয়া যায়, কিন্তু স্টেশনে তা অনুপস্থিত ছিল।
আটককৃত ব্যবস্থাপক মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০) গৌরীপুর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের হিম্মতনগর গ্রামের বাসিন্দা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি পেট্রোল গায়েব হওয়ার বিষয়ে সন্তোষজনক কোনও ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয় এবং নিয়মিত মামলার মাধ্যমে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মামলা দায়ের ও অভিযোগের বিবরণ
মঙ্গলবার রাতেই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১, ২ ও ৪ এপ্রিল ভৈরববাজার (কিশোরগঞ্জ) ডিপো থেকে মোট ৪০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ওই ফিলিং স্টেশনে আনা হয়। এরপর ৬ ও ৭ এপ্রিল আরও ১৮ হাজার লিটার পেট্রোল মজুত করা হয়।
সব মিলিয়ে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল স্টেশনে থাকার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় স্টেশনে ‘তেল নেই’ লেখা একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এই অসঙ্গতি উন্মোচন করে।
ফিলিং স্টেশন মালিকের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ
অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিক হাফেজ আজিজুল হক একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি যে পেট্রোল এনেছি তা প্রতিদিন বিক্রি করে দিয়েছি। এখানে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অযথা হয়রানি করেছেন।’ তবে তার এই দাবি অভিযোগের তদন্তে প্রভাব ফেলবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত।
গৌরীপুর থানার ওসি কামরুল হাসান জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যবস্থাপককে বুধবার আদালতে পাঠানো হবে। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত চলছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির আহ্বান জানাচ্ছে।



