ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি মামলায় ৬ অভিযুক্ত খালাস
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ চালু করতে ১০ কোটি টাকার সরঞ্জাম ক্রয় সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি মামলায় বিশেষ আদালত ছয় অভিযুক্তকে খালাস দিয়েছেন। বিশেষ বিচারক মো. শরীফ উদ্দিন সোমবার অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (এসিসি) দায়ের করা মামলায় মোট ১২ জনের মধ্যে ছয়জনকে এই রায়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
যারা খালাস পেয়েছেন
আদালতের রায়ে যেসব ব্যক্তি খালাস পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিজানুর রহমান, মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শেখ আব্দুল ফাত্তাহ, সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর ফকির, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সাবেক সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সাত্তার, হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা ওমর ফারুক এবং এনআইএমইউ অ্যান্ড টিসি ঢাকা সদর দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার মিয়া মর্তুজা হোসেন।
অবশিষ্ট অভিযুক্তদের অবস্থা
অবশিষ্ট ছয় অভিযুক্তের মধ্যে দুজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বাকি চারজন জামিনে মুক্ত আছেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এসিসির পাবলিক প্রসিকিউটর কুব্বাদ হোসেন জানান, সংশোধিত অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে সোমবার অভিযোগ গঠনের জন্য তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। শুনানির পর আদালত ছয়জনকে খালাস দিয়ে বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
মামলার পটভূমি ও সময়রেখা
২০১৫ সালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ চালু করতে মেসার্স আনিক ট্রেডার্স ও মেসার্স আলী ট্রেডার্স নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১০ কোটি টাকার সরঞ্জাম সরবরাহ করে। অর্থ পরিশোধ না পেয়ে তারা উচ্চ আদালতে আইনি প্রতিকার চান।
২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর উচ্চ আদালতের নির্দেশে এসিসি তদন্ত শুরু করে। এসিসির সহকারী পরিচালক মো. মামুন-উর-রশীদ চৌধুরী ক্রয় কমিটির তিন চিকিৎসক ও তিন ঠিকাদারকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন।
২০২৩ সালের ৯ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা এসিসি পরিচালক মো. ফরিদ হোসেন পাটোয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এই অভিযোগপত্রে তিন চিকিৎসককে বাদ দিয়ে তিন ঠিকাদারসহ মোট ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিশেষ বিচারক আকবর আলী শেখ অভিযোগপত্র বাতিল করে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।
২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট এসিসির সহকারী পরিচালক মো. বেনজীর আহমেদ সংশোধিত অভিযোগপত্র জমা দেন যাতে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই বর্তমান শুনানি ও রায় এসেছে।
কার্টেন কেলেঙ্কারি কী?
এই মামলাটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংঘটিত তথাকথিত 'কার্টেন কেলেঙ্কারি' নামে ব্যাপক আলোচিত হয়। আইসিইউ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের সময় অস্বাভাবিক মূল্যে কার্টেন ক্রয়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসিসির তদন্তে ১০ কোটি টাকার এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও তহবিল তসরুফের চেষ্টার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়।
আদালতের এই রায়ে মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে অবশিষ্ট ছয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলমান থাকবে। আইনি পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই রায় দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত প্রক্রিয়া ও আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।



