অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তের ঘোষণা

অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি তদন্তের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের ভূমিকা

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো পুনর্গঠিত হয়নি। তবে কমিশন পুনর্গঠিত হওয়ার পরেই এসব তদন্ত কার্যক্রম তাদের মাধ্যমেই শুরু হবে। তিনি বিশেষভাবে জোর দেন যে, দুর্নীতি শুধু অতীতের ঘটনা নয়, বর্তমান সরকারের সময়েও কোনো অনিয়ম ঘটছে কিনা সেটিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

"দুর্নীতির লাগাম টানতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ," বলেন তিনি। "এ কারণে সরকারের ভেতরেও কোনো অনিয়ম হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হবে।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা

অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ এবং এ যান নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অটোরিকশা অবশ্যই নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এটি শুধু বিদ্যুতের বিষয় নয়, সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।

তিনি বলেন, "অনেক চালক প্রশিক্ষিত নন এবং অনেক যানবাহন প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আগে এসব যান মূলত অলিগলিতে চলাচল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান সড়কেও চলাচল করছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।"

সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি। অনিয়মিত ও অনুপযুক্ত চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এভাবে চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যাংকিং খাত সংস্কারের পদক্ষেপ

ব্যাংক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান জানান, আগের সরকারের সময়ে এ খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে পুনর্গঠনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

"ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা হচ্ছে," বলেন তিনি। "অর্থনীতি সচল রাখতে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যাংক খাত ঠিক করা জরুরি।"

একই সঙ্গে তিনি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে এসব পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, ডা. জাহেদ উর রহমান একই সঙ্গে নীতি ও কৌশল এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন। তার এই ঘোষণা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।