স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি দেখিয়ে প্রতারণা: এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী প্রতারক রিয়াদ গ্রেফতার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি দেখিয়ে প্রতারণা, রিয়াদ গ্রেফতার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি দেখিয়ে প্রতারণা: এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী প্রতারক রিয়াদ গ্রেফতার

চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ভুয়া ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে মানুষকে প্রতারণার অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম রিয়াদ বিন সেলিম, যিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্রতারণা চালিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

গ্রেফতারের সময় ও স্থান

শনিবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে রিয়াদকে গ্রেফতার করা হয়। এই অভিযানে পুলিশ তার কাছ থেকে একাধিক ভুয়া পরিচয়পত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করে, যা তার প্রতারণার কার্যক্রমের প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।

জব্দকৃত সামগ্রী

গ্রেফতারের সময় রিয়াদের কাছ থেকে নিম্নলিখিত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) লেখা ভুয়া আইডি কার্ড
  • হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর
  • বাওফেং মডেলের ওয়াকিটকি সেট
  • সিগন্যাল লাইট
  • মনিটরিং সেল কার্ড
  • একাধিক মোবাইল ফোন

এই সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে রিয়াদ তার প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।

প্রতারণার পদ্ধতি

পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, রিয়াদ এআই প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সেগুলো তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করতেন। এছাড়াও, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে তদবির বাণিজ্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ট্যাক্স ইন্সপেক্টর ও কন্ট্রোল-সার্ভার ইনচার্জসহ বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা হাতিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা

কুমিল্লার দেবিদ্বারের বাসিন্দা মো. কামরুল হাসান জেলহাজতে থাকাকালে রিয়াদ তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত জামিন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রলোভনে পড়ে প্রথমে বিকাশে ১৫ হাজার টাকা এবং পরে নগদ আরও ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় রিয়াদ। এই ঘটনায় পটিয়া থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম) নাজমুল হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিয়াদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। পুলিশ এখন এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং তাদেরও গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও প্রতারণার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এই ধরনের অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।