কালিয়াকৈরে ঘোড়া বিক্রির অভিযোগে ওসি বদলি, তবুও থানা ছাড়েননি
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় জব্দ করা ঘোড়া বিক্রির অভিযোগে ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তবে শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকাল পর্যন্ত তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করে নতুন দায়িত্বে যোগদান করেননি। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
ঘোড়া জব্দ ও বিক্রির ঘটনা
গত ১৭ মার্চ কালিয়াকৈরের খলিশাজানি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে জবাইয়ের প্রস্তুতিকালে ৯টি ঘোড়া উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সেগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়। হেফাজতে থাকা অবস্থায় একটি ঘোড়া অসুস্থ হয়ে মারা যায়।
হঠাৎ করে কালিয়াকৈর থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন গত রোববার ভোরে গোপনে এক ব্যক্তির কাছে আটটি ঘোড়া বিক্রি করে দেন। সোমবার সকালে থানায় ঘোড়া না দেখে স্থানীয়রা ও সংবাদকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে পোস্ট করে। মুহূর্তেই ঘোড়া বিক্রির খবর ভাইরাল হয়ে যায়।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিলাম
এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ঘোড়াগুলো ফেরত আনা হয়। ২৪ মার্চ দুপুরে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হয়। তবে ঘোড়াগুলো ফেরত আনা হলেও দুটি ঘোড়ার রঙ জব্দ করা ঘোড়ার সঙ্গে অমিল দেখা যায়।
উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দ করা ঘোড়া বিক্রি এবং পরবর্তীতে ভিন্ন রঙের ঘোড়া হাজির করে নিলামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
ওসির বদলি ও অবস্থান
খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে কালিয়াকৈর থানার ওসিকে গত ৩০ মার্চ সরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া গত ২ এপ্রিল নতুন ওসির পদায়ন করা হয়। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত অভিযুক্ত ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন নতুন কর্মস্থলে না যাওয়ায় নতুন ওসি যোগদান করতে পারেননি।
কেন স্টেশন ছাড়েননি জানতে চাইলে ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, "আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে রোববার পর্যন্ত সময় নিয়েছি।"
গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও শ্রীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেরাজুল ইসলাম জানান, নতুন কর্মস্থলে যাওয়ার আগে থানার কিছু পেন্ডিং কাজের জন্য তিনি দুদিনের সময় নিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।



