বাসসের সাবেক এমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: গাড়ি ভাড়া ও বেতন কেলেঙ্কারি
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে নিজের মালিকানাধীন গাড়ি ভাড়ার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব মোর্শেদ এমডি থাকাকালে নিজের মালিকানাধীন একটি টয়োটা এলিয়ন গাড়ি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাসসের সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি করেন।
গাড়ি ভাড়ার বিতর্কিত চুক্তি
ওই গাড়ির জন্য মাসিক দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা জ্বালানি, চালক ও অন্যান্য ব্যয়সহ সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা ব্যবহারের জন্য প্রযোজ্য ছিল। তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি স্বার্থের দ্বন্দ্বের স্পষ্ট উদাহরণ। যদিও এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন, ‘এ রকম কিছু ঘটে নাই।’ রেন্ট–এ-কার সার্ভিস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গাড়িটি ভাড়ায় দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবদুল কাদের দাবি করেন, ভাড়ার পুরো অর্থই মাহবুব মোর্শেদ গ্রহণ করতেন।
আবদুল কাদেরের ভাষ্য, ‘একটা প্রতিষ্ঠানের এমডি যদি বলে তার গাড়ি অন্যের নামে চালাতে, তখন কিছু করার থাকে না।’ বাসস সূত্রে জানা যায়, এমডির ব্যবহারের জন্য সংস্থার নিজস্ব গাড়ি থাকলেও মাহবুব মোর্শেদ নিজের ভাড়াকৃত গাড়িটিই ব্যবহার করতেন।
বেতন ও ভাতা নির্ধারণের অভিযোগ
এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে বেতন-ভাতা নিজে নির্ধারণের অভিযোগও উঠেছে। নিয়োগের সময় কোনো বেতন কাঠামো নির্ধারিত না থাকলেও পরে তিনি নিজেই চুক্তিনামা করে মাসিক প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকার বেতন-ভাতা নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে বিশেষ ভাতা হিসেবে আরও ২২ হাজার টাকা যোগ করেন। এছাড়া পত্রিকা, মোবাইল, ইন্টারনেট ও জার্নাল বাবদ আলাদা বিলও উত্তোলন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম
আরও অভিযোগ রয়েছে, এমডি থাকাকালে তিনি ২২ জনকে স্থায়ী ও ৪১ জনকে খণ্ডকালীন নিয়োগ দেন, যার মধ্যে কিছু পদ বিদ্যমান জনবল কাঠামোর বাইরে ছিল। এসব নিয়োগ ও ভাতা প্রদানের বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ বা মন্ত্রণালয় অবগত ছিল না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
পদচ্যুতি ও বর্তমান অবস্থা
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছরের জন্য বাসসের এমডি পদে নিয়োগ দেয়। তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে তিনি কার্যালয় ত্যাগ করেন। সর্বশেষ ১ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে।
তদন্ত চলাকালীন মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নথিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



