গাজীপুরে ডিসির সঙ্গে ৬৫ কোটি টাকা ঋণের প্রতারণা চেষ্টা, তিনজন গ্রেফতার
গাজীপুরে ডিসির সঙ্গে প্রতারণা চেষ্টা, ৩ গ্রেফতার

গাজীপুরে ডিসির সঙ্গে ৬৫ কোটি টাকা ঋণের প্রতারণা চেষ্টা, তিনজন গ্রেফতার

গাজীপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ৬৫ কোটি টাকা ঋণের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দুইজন এবং ঢাকার গুলিস্তান থেকে অপরজনকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

গ্রেফতারকৃতরা হলেন লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার পূর্ব দেউলি গ্রামের মৃত তোফায়েল আহমেদের ছেলে মো. মোর্শেদ আলম (৪৫), কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার মো. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) এবং বগুড়া সদরের মালতীনগর এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. সাব্বির আলী (৪৫)।

মামলার বিস্তারিত

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় সহকারী গোলাম রসুল বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন রংপুরের কাউনিয়া থানার আব্দুল মালেকের ছেলে মো. মাহিদুল মাইদুল ইসলাম (৪০) এবং ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার কাচিয়া এলাকার মো. আমির হোসেনের ছেলে মো. মাজহার উদ্দিন মাজেদ (৩০)।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে মো. মোর্শেদ আলম ও মো. নজরুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরিচয় দিয়ে তাদের টাইপকৃত নাম-ঠিকানা ও স্বাক্ষরবিহীন দুই কপি “সম্মতিপত্র” উপস্থাপন করেন।

সম্মতিপত্রের বিষয়বস্তু

সম্মতিপত্রে লেখা ছিল, ‘সে আপনার প্রতিষ্ঠান হতে অদ্য ২৮/০৩/২০২৬ তারিখে তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৬৫ (পঁয়ষট্টি কোটি) টাকা ঋণ গ্রহণ করিবে এবং যাহার সার্ভিস চার্জ ১০ কোটি টাকা, মোট পঁচাত্তর কোটি টাকা ঋণগ্রহণ করিবে, যাহার বিপরীতে ১৮ মাসে কাজের মাধ্যমে সর্বমোট একশ পঞ্চাশ কোটি টাকা প্রদান করিবে; তাহার সমস্ত দায়দায়িত্ব গ্রহণ করিতে সম্মতি প্রদান করিলাম।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসককে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নাম-ঠিকানা ও স্বাক্ষরবিহীন দুই কপি সম্মতিপত্রে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন জেলা প্রশাসক তাদের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে মো. মোর্শেদ আলম ও মো. নজরুল ইসলামকে আটক করেন।

গ্রেফতার ও তদন্ত

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, জনৈক মো. সাব্বির আলী, মো. মাহিদুল মাইদুল ইসলাম ও মো. মাজহার উদ্দিন মাজেদসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন তাদের পাঠিয়েছেন এবং তারা একত্রে প্রতারণার উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য এসেছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক অবগত হওয়ার পর পুলিশকে সংবাদ দিলে মহানগর গোয়েন্দা শাখা, ডিবির (উত্তর) একটি টিম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে আসামি মো. মোর্শেদ আলম ও মো. নজরুল ইসলাম আটক করে। পরে তাদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে অপর প্রতারক মো. সাব্বির আলীকে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গুলিস্তান গোলাপশাহ মাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে ঢাকা মহানগরের কদমতলী থানাধীন নূরপুর এলাকার আপন গাজী প্যালেস ভবনে ৩য় তলার ফ্ল্যাট থেকে মো. মাহিদুল ইসলামের বাসায় অভিযান চালায়। তার বাসায় তল্লাশি করে বিভিন্ন প্রকার স্বাক্ষরযুক্ত ব্ল্যাংক চেক ও লিখিত স্ট্যাম্প জব্দ করে।

পুলিশের বক্তব্য

সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় দেশের নিরীহ মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ও লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ব্ল্যাংক চেক ও লিখিত স্ট্যাম্প নিয়ে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতি করে আসছিল। বিষয়টি মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।