দুদকের আবেদনে আদালতের নির্দেশ: তিন ব্যক্তির আয়কর নথি জব্দ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক তিনটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সাবেক চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেন, তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ শিকদারের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ জারি করেছেন। দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো দায়ের করেছিলেন।
এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে মামলা রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শুরু থেকে ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত তাঁর নামে দাখিল হওয়া আয়কর নথি জব্দ করে পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ
অন্যদিকে, এম মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়ার বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অবৈধ সম্পদ অর্জনে জান্নাতুল মাওয়া সহায়তা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে জান্নাতুল মাওয়ারও শুরু থেকে ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি জব্দ করে পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানানো হয়েছে।
আব্দুর রশিদ শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
পৃথক আরেক আবেদনে লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ শিকদারের আয়কর নথিও জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে ৭ কোটি ২ লাখ ১৪ হাজার ৪০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁর শুরু থেকে ২০২১-২২ করবর্ষ পর্যন্ত দাখিল করা আয়কর নথি জব্দ ও পর্যালোচনার প্রয়োজন বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী প্রক্রিয়া
দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আদালতের আদেশের পর এখন সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল থেকে এসব নথি সংগ্রহ করে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু করবে সংস্থাটি। এই পদক্ষেপ দুর্নীতি মামলাগুলোর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



