এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রশীদ মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নিয়োগ বাতিল, দুর্নীতির অভিযোগ

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রশীদ মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে আবদুর রশীদ মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সরকার কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গত ২৪ মার্চ তাঁকে এক বছরের জন্য এই পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মাত্র পাঁচ দিন পরই তা প্রত্যাহার করা হলো।

নিয়োগ বাতিলের পেছনের কারণ

এলজিইডি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। আবদুর রশীদ মিয়া পূর্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে চুক্তিভিত্তিকভাবে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হলে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে থাকাকালীন আবদুর রশীদ মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৩ সালের এপ্রিলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই অভিযোগগুলোর তদন্ত শুরু করে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জ্ঞাত আয়ের বাইরে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্মকর্তাদের অসন্তোষ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আবদুর রশীদ মিয়াকে প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়ায় এলজিইডির অন্যান্য কর্মকর্তারা গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা প্রশ্ন তোলেন, কেন এমন একজন ব্যক্তিকে উচ্চপদে নিয়োগ দেওয়া হলো যাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবদুর রশীদ মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। এই ঘটনায় তিনিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন মহলের সমালোচনা এবং দুদকের তদন্তের প্রেক্ষাপটে সরকার আবদুর রশীদ মিয়ার নিয়োগ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই পদক্ষেপটি সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি প্রতিশ্রুতির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এলজিইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।