টিউলিপ সিদ্দিককে আদালতে হাজির করতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ, ৮ এপ্রিলের নতুন সময়সীমা
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নী ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুজনকে আদালতে হাজির করতে আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। এই নির্দেশনা রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে করা মামলার প্রেক্ষিতে জারি করা হয়েছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও সময়সীমা
রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ-এর আদালতে গেজেট প্রকাশ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন বিজি প্রেস থেকে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় আদালত আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নতুন নির্দেশ দেন। অপর আসামি হিসেবে এই মামলায় রয়েছেন রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন।
মামলার পটভূমি ও আইনি প্রক্রিয়া
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করে একই আদালত টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৯ মার্চ দিন ধার্য করেন। তবে সেদিনও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে না পারার প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে আইন অনুযায়ী, ৮ মার্চ টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুজনকে আদালতে হাজির করতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে ২৯ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঢাকার গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এলাকার একটি ফ্ল্যাট দখল নেন এবং পরে সেটি রেজিস্ট্রি করেন।
অন্যান্য আসামির আইনি অবস্থান
এদিকে, গত জুলাই মাসে আসামি শাহ খসরুজ্জামান হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তার বিরুদ্ধে তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে চেম্বার আদালতে গেলেও দুদক ‘নো অর্ডার’ পায়, যা এই মামলার জটিলতা বাড়িয়েছে। টিউলিপ সিদ্দিকের বিষয়ে আদালতের এই সর্বশেষ নির্দেশনা দুর্নীতি মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই মামলাটি দেশের উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা এবং আইনি প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গেজেট প্রকাশের এই নির্দেশনা মামলার অগ্রগতিতে নতুন গতি আনতে পারে এবং আসামিদের দ্রুত আদালতে হাজির করতে বাধ্য করতে পারে।



