পটুয়াখালীতে তরমুজ ছিনতাইয়ের অভিযোগে উপ-খাদ্য পরিদর্শক সাময়িক বরখাস্ত
পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় তরমুজ বোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারের পর মো. অলিউল্লাহ অলি নামের এক উপ-খাদ্য পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকির হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বরখাস্তের প্রক্রিয়া ও অভিযুক্তের পরিচয়
জাকির হোসেন জানান, বাউফল থানা থেকে অফিসিয়াল চিঠি পাওয়ার পর ২৭ মার্চ (শুক্রবার) জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মো. অলিউল্লাহকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত মো. অলিউল্লাহ অলি মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের হারুন মুন্সির বড় ছেলে হিসেবে পরিচিত।
মামলার বিস্তারিত ঘটনা
মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় কয়েকজন কৃষক তরমুজ চাষ করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অলিউল্লাহ ওই জমি নিজের দাবি করে তরমুজ কেটে নিতে হলে কৃষকদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ১৬ মার্চ চাষিরা তরমুজ কেটে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এই সময় অলিউল্লাহর নেতৃত্বে তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে জোরপূর্বক তরমুজবোঝাই ট্রলার দুটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ট্রলার ফেরত দিলেও আরেকটি ট্রলার আটকে রাখা হয়।
মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরব আলী নামের এক চাষি বাদী হয়ে বাউফল থানায় অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে। এই মামলার প্রেক্ষিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অলিউল্লাহকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়, যা স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।



